বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসে। ঠিক যেমন শৈশবে শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ খাবারের তালিকা মেনে চলতে হয়, ঠিক তেমনি প্রবীণ বয়সেও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। বয়স যখন ষাটের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে। এই সময়ে অহেতুক অসুস্থতা এড়াতে এবং শারীরিক সুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী করতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে নির্দিষ্ট কিছু খাবার বাদ দেওয়া বা কমিয়ে ফেলা অত্যন্ত জরুরি। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন হতে শুরু করে বাড়তি যত্নেরও। বয়স্করাও ধীরে ধীরে অনেকটা শিশুর মতো হয়ে যান। হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মুরগি বা মাছের মতো তাজা খাবার বেছে নিন। প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর না করে খাবারে স্বাদ আনার উপায় খুঁজে বের করলে তা আপনার খাদ্যাভ্যাসকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
বয়স্কদের জন্য ক্ষতিকর খাবারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত মাংস বা প্রসেসড মিট। সসেজ, বেকন কিংবা টিনজাত মাংস অনেকেরই বেশ পছন্দের খাবার হলেও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য এগুলো মোটেও নিরাপদ নয়। এই জাতীয় খাবারে উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়, যা উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া বয়স্কদের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় এসব খাবার হজম করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কোন খাবারগুলো ক্ষতিকর, কোনগুলো নয় তা নিয়ে তারা খুব একটা বাছ-বিচার করেন না। সুস্বাদু বলে অনেক সময় এমন অনেক খাবার খেয়ে ফেলেন, যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। বেশি করে উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন গ্রহণ করাও উপকারী হতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি ও লবণযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাকে জটিলতর করে তোলে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসসহ নানা বিপাকীয় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শরীর সুস্থ রাখতে প্রবীণ বয়সে পুষ্টিকর, প্রাকৃতিক ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সব মিলিয়ে বয়স ষাট পেরোনোর পর খাদ্যাভ্যাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার বর্জন করে সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করলে প্রবীণ বয়সেও শারীরিক সক্ষমতা অনেকাংশে বজায় রাখা সম্ভব। তাই প্রিয়জনদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপস না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা ও পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয়ে বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ভেষজ ও মসলা দিয়ে রান্না করলে ক্ষতিকর সংযোজন ছাড়াই খাবারের স্বাদ বজায় রাখা যায়।