বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ৪ হাজার ৩০০ ইউপিতে ভোটের বড়

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী বছরের ২৭ মে-র মধ্যে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই নির্বাচন প্রক্রিয়া পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৮০০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মূলত যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, আইন অনুযায়ী সেগুলোতে এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূল। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই সময়সূচি নিশ্চিত করেছেন। ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ইসি কোনো ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মানদণ্ড রয়েছে, সেই আলোকে ইউপি নির্বাচনেও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে। কমিশনের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। আমরা ভালো নির্বাচন করার জন্যই দায়িত্ব নিয়েছি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে কমিশন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, কোনো প্রার্থী বা তার অনুসারী পেশিশক্তির ব্যবহার, মারামারি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনি এলাকায় জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ—দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু আইনানুগ শাস্তিই নয়, বিধি অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে দ্বিধা করবে না কমিশন।

নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে। দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হবে। ভোটের ৪৫ দিন আগেই সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মকর্তারা তফসিল ঘোষণা করবেন। ধাপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে প্রথমে জেলা ও উপজেলা সদরসংলগ্ন ইউনিয়নগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা যায়। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক আঘাত বা বলপ্রয়োগ করা গুরুতর অপরাধ। এছাড়া সংবাদকর্মী বা পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং সরঞ্জাম নষ্ট করাও আইনত দণ্ডনীয়। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও এ বিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

কমিশন কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ বা অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের হাতে রয়েছে। এছাড়া কোনো ভোটকেন্দ্র বা এলাকা থেকে বড় ধরনের কারচুপির প্রমাণ পাওয়া গেলে কমিশন কেন্দ্র বা পুরো নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট অথবা তার নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।

নির্বাচনী অপরাধ পর্যবেক্ষণের জন্য কমিশন প্রতিটি ধাপে আলাদা মনিটরিং কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি সরাসরি মাঠ পর্যায়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনি পরিবেশের ওপর নজর রাখবে। কমিশনের উদ্দেশ্য কেবল শাস্তি দেওয়া নয়, বরং আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ থেকে শুরু করে অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা