বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

রূপগঞ্জে বাড়তি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রি, চরম ভোগান্তি

Reporter Name / ৩৭ Time View
Update : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার মিলছে না। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ঘাটতির কারণে স্থানীয় বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ফলে একদিকে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে বাড়তি খরচের চাপে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন পরিবার ও ছোট ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অথচ রূপগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে কোম্পানিভেদে এসব সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। কোনো কোনো স্থানে এর চেয়েও বেশি দাম নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে নির্ধারিত দামের তুলনায় ক্রেতাদের পকেট থেকে অতিরিক্ত ৩৬৩ থেকে ৪৬৩ টাকা কিংবা তারচেয়েও বেশি অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। অনেক দোকানে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত এই জ্বালানি।

স্থানীয় বাজার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বেশিরভাগ দোকান ও ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস নেই। ডিলারদের দাবি, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত চালান আসায় তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এই সুযোগে কিছু খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রান্নার কাজে সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল ফ্ল্যাটবাসিন্দারা বাধ্য হয়েই বেশি দামে গ্যাস কিনছেন, ফলে পারিবারিক ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

মাসাব এলাকার গৃহিণী আলেয়া বেগম জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে বাজারে সিলিন্ডার মেলে না এবং ফ্ল্যাটবাড়িতে খড়ি দিয়ে রান্নার বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। স্বামী স্বল্প আয়ের মানুষ হওয়ায় এই বাড়তি ব্যয় সংসার চালানো কঠিন করে তুলেছে। আরেক ভোক্তা রোকেয়া বেগম জানান, দুই হাজার তিনশ টাকা দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কেনার পরও பல দোকান ঘুরে তা সংগ্রহ করতে হয়েছে। চা বিক্রেতা সেলিম মিয়া জানান, ৪৬৩ টাকা বাড়তি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হলেও পণ্যের দাম বাড়াতে না পারায় তাঁর ব্যবসায় লাভ কমে গেছে। খুচরা ব্যবসায়ী সজীব আহম্মেদ দাবি করেন, পাইকারি পর্যায়ে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় কেনার পর পরিবহন খরচ যোগ করে তাঁদের বেশি দামে বিক্রি করতে হয়, আর ডিলাররা বাড়তি দাম নিলেও কোনো রসিদ দেন না।

এদিকে ডিলারদের ভাষ্যে দামের তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ফ্রেশ গ্যাসের ডিলার সালমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সালমান জানান, বিইআরসির দাম নির্ধারণ করা থাকলেও কোম্পানি থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায় না এবং সিলিন্ডারপ্রতি ৫০ টাকা লাভে বিক্রির পর খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছায় দাম বাড়ান। তীর বেঙ্গলের ডিলার শুভ্র গ্যাসের ম্যানেজার সহিদ মিয়া জানান, গত মাসের ১১ তারিখের পর চলতি মাসের ১ তারিখে সামান্য কিছু সরবরাহ এলেও আর কোনো চালান আসেনি এবং তাঁরা সর্বশেষ ১ হাজার ৯০০ টাকায় সিলিন্ডার বিক্রি করেছেন। তবে ১ হাজার ৯৫০ টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে দাবি করেন, সব ডিলার বেশি দামে বিক্রি করেন না।

এ বিষয়ে জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আল সোহান জানান, নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা