বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

রাষ্ট্রসংস্কার ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক চক্রে জিম্মি: টিআইবি

Reporter Name / ৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে আটকা পড়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নে কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসের ঘাটতি ছিল। একইসঙ্গে আমলাতান্ত্রিক বাধার কাছে আপোস করার ফলে রাষ্ট্রসংস্কারের প্রয়োজনীয় ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।

বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর একচ্ছত্র দখল চর্চায় শুধুই হাতবদল হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এখন জিম্মি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম মূলত ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছে-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী জোটও জনস্বার্থে সংস্কারের পথ না ধরে দলীয় রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের দিকেই মনোযোগ দিয়েছে। ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১৮১। শেবাগের ছেলের তাণ্ডব, ১৯ চার ও ৮ ছক্কায় ১৭৩। ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ সমাবেশের আগে আটক অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা। একইসঙ্গে, বিরোধী জোট জনস্বার্থে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকার পথ ছেড়ে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দার রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।’। রাবিতে হামলা প্রসঙ্গে টিআইবি / ‘রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধের সুরক্ষাকবচ না হয়’।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে জয়ী দলের সদস্যরা ৩১-দফা ইশতেহার ও জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও এবং গণভোটের সমর্থক হয়েও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এই অশুভ অবস্থানের কারণে রাষ্ট্রসংস্কার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়নসহ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সংস্কার এখন সরকারি দলের সিদ্ধান্তের ওপর আটকে আছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। বর্তমান সরকার এর মধ্যে যেসব অধ্যাদেশ নির্বাহী বিভাগকে আরও বেশি জবাবদিহিহীন ও ক্ষমতাবান করে, সেগুলোকে আইনে পরিণত করেছে। কিন্তু যেসব অধ্যাদেশে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল, তা বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলোর দখল-চাঁদাবাজি ও দলীয়করণের ক্ষেত্রে ‘এবার আমাদের পালা’ মানসিকতা রাষ্ট্রসংস্কারকে প্রায় অসম্ভব করে তুলছে। এক্ষেত্রে যেসব অধ্যাদেশ সরকারের তথা নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতাকে অধিকতর জবাবদিহিহীনভাবে শক্তিশালী করেছে, সেগুলো পাস করা হয়েছে।

বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার প্রসঙ্গের বিচ্যুতি তুলে ধরে টিআইবি প্রধান জানান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ও বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করে সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উল্টো পথে হেঁটেছে। দুদক সংশোধন অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে ২০০৪ সালের পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়া হয়েছে, যা শুরু থেকেই দুদকের ওপর থাকা আস্থাহীনতার সংকটকে আরও গভীর করেছে। সব রাজনৈতিক দল একমত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে বিল পাস না করে পূর্বের (২০০৪ সাল) আইনে ফিরে যাওয়ায় দুদক জন্মলগ্ন থেকে যে আস্থাহীনতার সংকটে ভুগছে, তা থেকে উত্তরণের। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললেও কাটছে না পুরোনো শঙ্কা।

এছাড়া, সদ্য পাস হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইনটি একটি স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন গঠনের জনআকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থি। গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত প্রধান সংস্থাগুলোকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। র‍্যাব বিলুপ্তির দাবির মুখে সংস্থাটিকে নতুন নামে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আবার স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তিন মাসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী প্রকাশ ও তা হালনাগাদের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর তা পালনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন তুলে বলেন, অতীতে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করার খেসারত দেওয়ার পরও এত দ্রুত রাজনৈতিক দল ও সরকার কীভাবে তা ভুলে গেল? জুলাই সনদ মূলত বিগত শাসনামলের তিক্ত অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞতার আলোকেই তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে বড় দলগুলোর ঐকমত্য ছিল। তবে এখন একচ্ছত্র ক্ষমতার মোহ ও দলীয় ফায়দা মেটানোর রাজনৈতিক চর্চার কারণে সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ হতে চলেছে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আবারও রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রজ্ঞা ও সদিচ্ছার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানায় সংস্থাটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় এমনটা ঘটেছে বলে মনে করে সংস্থাটি। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলসহ বিগত সময়ের অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখেই প্রণীত হয়েছে এবং সরকারি দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য স্বত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তখন ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। ‘গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধে জুলাই সনদ প্রণয়নে বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক মতৈক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল, রাষ্ট্রসংস্।

সংস্থার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ

  • দখল-চাঁদাবাজিরাজনৈতিক দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা ক্ষমতাসীনদের জন্য বড় অশনিসংকেত।
  • নৈতিক আচরণবিধিজনপ্রতিনিধিদের জন্য কালবিলম্ব না করে নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
  • সাইবার সুরক্ষা আইনপ্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের অধিকার হরণের বড় ঝুঁকি রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category