বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ

সৌদিতে হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলার পেছনে সক্রিয় কোন কারণগুলো

Reporter Name / ৪১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হুথিরা গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে আক্রমণ চালিয়েছে। এই হামলাগুলো সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অকার্যকারিতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তেলনির্ভরতা কমিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদী সৌদি পরিকল্পনাও এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, হুথিদের বর্তমান সামরিক শক্তির পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সহায়তায় উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন, আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত হ্রাস এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুথিরা ইরান থেকে অস্ত্র, অর্থ এবং প্রশিক্ষণের সুবিধা পেয়ে আসছে। যদিও তেহরান জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং হিজবুল্লাহর প্রশিক্ষকরা হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রাথমিক পাঠ দিয়েছে। বর্তমানে হুথিরা নিজেরাই স্থানীয় প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। ইরানের এক সাবেক উপদেষ্টার মতে, তেহরান সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করলেও হুথিদের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন, কারণ তারা এখন অস্ত্র তৈরির নিজস্ব কৌশল শিখে নিয়েছে।

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হুথিরা অস্ত্র সংগ্রহের উৎস হিসেবে বৈচিত্র্য এনেছে। কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা চীন থেকে আসা বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকার ইতোমধ্যে এমন একটি চালান আটকও করেছে। অন্যদিকে, অস্ত্র চালনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক গত মাসে জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনের একদল ব্যক্তি তাদের ‘ক্লড’ এআই সহকারীর মাধ্যমে রকেট নিয়ন্ত্রণ, দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক প্রযুক্তির সফটওয়্যার তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দাবি করেছে, তারা হুথিদের ছোড়া বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং তাদের ১২৭টি অস্ত্রাগার ও উৎক্ষেপণকেন্দ্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, হুথিরা আঞ্চলিক সহযোগীদের মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরকবাহী দ্রুতগতির নৌযানের মতো উন্নত প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে। তবে জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ফারজান সাবেতের মতে, সৌদি আরবের বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের কারণে আকাশপথে হামলা পুরোপুরি ঠেকানো বেশ কঠিন। তার মতে, সৌদি আরব এখনো ইসরায়েল বা ইউক্রেনের সমপর্যায়ের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নিজেদের ঘাঁটি এবং মিত্রদের সুরক্ষায় প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র ব্যবহৃত হওয়ায় সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা কিছুটা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার সময়ের মধ্যে তাদের অস্ত্রের সক্ষমতাও বেড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হুথিরা ২০২২ সালে এক অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের পর তারা পুনরায় সক্রিয় হয় এবং ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে শুরু করে। ফারজান সাবেত মনে করেন, যুদ্ধের ময়দানে হুথিরা এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তারা অস্ত্রের প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে, যা তাদের হামলাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা