শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কাজ করে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১০টি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর। মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার কার। সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ফেসবুক পোস্ট যেভাবে ‘মব হামলা’ উসকে দিয়েছিল। ‘ঘুম ভাঙতেই আগুন জ্বলার মতো শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। জনসংযোগ দপ্তরের দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাবি। উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ প্রতিবেদন তৈরিতে ঢাবি ও জবি সংবাদদাতা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৯ ইউনিট।
ছুটি কাটাতে ঢাকা থেকে আসা এক পরিবারের নয়জন সদস্য ওই রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে আশিকুল ইসলামসহ মাত্র তিনজন বেঁচে ফিরতে পেরেছেন। আশিকুল জানান, সকালে ঘুম থেকে জেগে তিনি ভয়াবহ ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। রুমের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়লে কোনোমতে জানালা ভেঙে তিনি নিচে লাফ দিয়ে জীবন বাঁচান। তিনি জানান, আরও এক মিনিট দেরি হলে দম বন্ধ হয়ে হয়তো তাকেও প্রাণ হারাতে হতো। কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড / ‘আর এক মিনিট থাকলে দম বন্ধ হয়ে আমিও মারা যেতাম’। দরজা খুলে বাইরে বের হতেই মুখে আগুনের তাপ অনুভব করি।
তিনি জানান, সকাল ১০টায় তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। আশিকুলের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (২৮) তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিয়ে অন্য সদস্যদের সতর্ক করতে অন্য রুমে ছুটে গিয়েছিলেন। এরপর আর স্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি। পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি তাদের চিরতরে হারিয়েছেন। আশিকুল যাদের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছেন, তারা হলেন—তার স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা (২৬), খালাতো শ্যালিকা মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), শ্যালিকা ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ফাইজান আহমেদ এবং খালাতো শ্যালক মো. নাফিস তেহামী (২৬)।
এদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন লায়লা জাহান নাবিলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন নাফিস তেহামী। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্য ইফতি আগের রাতে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ায় এই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান। আশিকুলের মামাশ্বশুর মাসুদ ও তার স্ত্রী নীলাও এ ঘটনায় আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিকেলে স্বজনরা তাদের নিয়ে ঢাকা রওনা হন। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। এ তথ্য জানান জবি শিক্ষার্থী ও খালাতো ভাই আবদুল আহাদ সরকার। পরে বিকেল পৌনে ৪টার একটি ফ্লাইটে তাদের তিনজনকে ঢাকায় নিয়ে যান স্বজনরা।
দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্ত করা হবে এবং ডিএনএ রিপোর্টের পর মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। এদিকে, অগ্নি নিরাপত্তার কোনো লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও রিসোর্টটি পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, চার মাস আগেই এই রিসোর্টকে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। লাইসেন্স ছিল না টুপটুপ রিসোর্টের, ৪ মাস আগে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস।