সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ফসলের রোগবালাই ও ক্ষতিকর পোকা দমনে রাসায়নিক কীটনাশকের অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত ব্যবহার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী এই অব্যবস্থাপনায় শুধু মাটির গুণাগুণই নষ্ট হচ্ছে না, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে বারবার কীটনাশক ছিটিয়েও অনেক ক্ষেত্রে পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পাঙ্গাসী এলাকার কৃষক জাকারিয়া শেখ জানান, ধানের জমিতে পোকা দমনে একাধিকবার রাসায়নিক প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না, উল্টো চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ধামাইনগরের কৃষক জিন্নাহ ফকিরের ভাষ্যমতে, ফসল রক্ষায় সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও জমির উর্বরতা টিকিয়ে রাখা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। কৃষকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে জমির পূর্বের উৎপাদন ক্ষমতা আর বজায় থাকছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করলে মাটির উপকারী অণুজীব ও জলজ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে এই বিষাক্ত উপাদান জলাশয়ে মিশে দেশি প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটাপন্ন করে তুলছে। দীর্ঘমেয়াদে কৃষির উৎপাদনক্ষমতা ধরে রাখতে এখন থেকেই সচেতনতা ও নিরাপদ কৃষিচর্চা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, জমির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে সুনির্দিষ্ট মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে জৈব সার প্রয়োগ, ফসল পর্যায়ক্রমে আবাদ এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিরাপদ কৃষি নিশ্চিত করতে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধিই এখন প্রধান লক্ষ্য।