মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এলাকাভিত্তিক মাদক নির্মূল ও জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যেই তিনি এই দায়িত্ব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে এলাকায় গিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও তিনি জানান। আমি উনাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরও যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি বলেছেন, ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক কর, এলাকায় কাজ কর।’।
সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের একটি দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিতর্কিত এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, যদি আমার কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তবে তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। তবে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আত্মরক্ষার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সময় তিনি অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেটি আর দেখা যায়নি। ‘কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল সেদিন করিনি।
অভিযানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে অনেক বছর মুখ খুলতে পারেননি কারণ মাদক কারবারিদের কাছে অর্থ ও অস্ত্র রয়েছে। তিনি স্থানীয়দের অভয় দিয়ে তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া এবং শাস্তির মুখোমুখি করার লক্ষ্যে কাজ করছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে আধিপত্যবাদী শক্তি ড্রোন ও অন্যান্য উপায়ে কাঁটাতারের বেড়া পার করে মাদক ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় বার বার বলেছি যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে মুখ খোলে না বহু বছর, যারা ওখানে বাস করেন। যাতে একটা দুইটা জেনারেশনকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেওয়া যায়, বাংলাদেশ জাতি যাতে মাথা উঁচু করে না দাঁড়াতে পারে, সেটার জন্য আমাদের আশেপাশে যারা আধিপত্যবাদী শক্তি রয়েছে, তারা সবসময় সক্রিয় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের জন্য ইশরাক হোসেন নির্ধারিত সময়ের আগেই জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হন এবং এ সময় তার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন। এর আগে সকালের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি সোমবার দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং নানা বিতর্কের মুখে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের বিদায় চূড়ান্ত হলো।