বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ডান হাতের আঙুলের চোটে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময়

অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বুধবার ভোরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ঝড়টি বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হলেও বুধবার সকালেও এর কেন্দ্র উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। ফলে আরও কয়েক ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ‘অর্ণব’-এর কেন্দ্র অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের খুব কাছে চলে এসেছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দুই রাজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে ৬০৯টি স্কুল ভবনকে অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ৩০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌযান নিরাপদ অবস্থানে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১ হাজার ১০০টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই রাজ্যে মোট ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বিশেষ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, যদিও উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব চলমান থাকায় পরিস্থিতির পরিবর্ধন বা পরিবর্তন হতে পারে।

উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাব বেশ প্রকট। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমে ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭, কাকিনাড়ায় ১১৮ এবং মছিলিপত্তনমে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে কাকিনাড়া, বিশাখাপত্তনম, অমলাপুরম ও কোনাসীমা জেলায় গাছপালা উপড়ে পড়া ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুধু কোনাসীমা জেলাতেই প্রায় ছয় হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুর্যোগের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের ট্রেন ও ফ্লাইট চলাচল বাতিল করতে হয়েছে। অন্য কয়েকটি এলাকায়ও ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কাকিনাড়া, বিশাখাপত্তনম, অমলাপুরম ও কোনাসীমা জেলায় ঝড়ের প্রভাবে গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং নিচু এলাকায় পানি জমার খবর পাওয়া গেছে।

ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এবং সেখানে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়টির মূল আঘাত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলেই পড়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানার কোনো শঙ্কা নেই। তবে এর প্রভাবে বুধবার দেশের আট বিভাগেরই কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে। মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সতর্কতা বজায় থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা