রাজধানীতে সক্রিয় সন্দেহভাজন ৫৪৫ জন চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ১৯ হাসপাতালে নতুন ২৮৭৯ শয্যা, ৯৩ শতাংশ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এলাকায়। এর আগে ডিএমপি ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন চাঁদাবাজির তালিকা তৈরি করেছিল, যাদের একটি বড় অংশই ছিল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অবশিষ্ট ছয়জনের মধ্যে দুজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দুজন সাবেক পুলিশ সদস্য। পরের দিন পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
সরকারের নির্দেশে ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) এই তালিকা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্তদের গ্রেপ্তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় পুলিশ পুরোদমে অভিযান শুরু করতে পারছে না। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের দ্বিধা ও শঙ্কা। বিশেষ করে তালিকাভুক্তদের অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি বা রোষানলে পড়ার ভয়ে পুলিশ দ্বিধাগ্রস্ত। ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে তাসকিনের বড় লাফ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ‘অপেশাদার আচরণ’, তাৎক্ষণিক সরানো হলো রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারকে। চিরনিদ্রায় শায়িত সাংবাদিক সোহরাব হোসেন। রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক তখন এই তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলো। তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের যখনই তাদের (চাঁদাবাজদের) গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা তা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু ওই নেতার সঙ্গে একজন মন্ত্রীর যোগাযোগ রয়েছে, জানার পর মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে যেতে গড়িমসি করেন।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকায় থাকা ২১৫ জনের নাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত ৭৫ জনের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া অবশিষ্টদের মধ্যে ছয়জন এবং বাকিরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া সক্রিয় রয়েছেন। ডিএমপির মিডিয়া উইং জানিয়েছে, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তালিকা থেকে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতিও রয়েছেন, যাকে গ্রেপ্তারের পর দুই দিনের মধ্যেই জামিন পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের তালিকা তৈরির ঘটনা। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন জানান, আগের তালিকা যাচাই-বাছাই এবং মাঠপর্যায় থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহের পর সর্বশেষ তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় থাকা ২১৫ জনের নাম পেয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭৫ জনের সঙ্গে বিএনপি বা এর সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তালিকাভুক্ত বাকি ১৩৪ জনের কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপনও রয়েছেন। গত ৫ অক্টোবর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) স্বপনকে আটক করে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করে। তবে এসআরবি সূত্র জানিয়েছে, ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগেই স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম সঙ্গে আলাপকালে জানান, এসআরবি কোনো নির্দিষ্ট মামলার আসামি হিসেবে স্বপনকে তাদের কাছে হস্তান্তর করেনি।
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা বা অভিযোগ ছাড়া তালিকা ধরে কাউকে গ্রেপ্তার করা আইনত কঠিন।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, তালিকা ধরে গ্রেপ্তার করলে তাদের কোন মামলায় দেখানো হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রয়োজন।
তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তার মতে, তালিকাভুক্তদের দ্রুত জামিন পাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আসছে না।
মাঠপর্যায়ের সদস্যরা বলছেন, প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এককভাবে পুলিশের অভিযান চালানো বেশ অস্বস্তিকর।
এসআরবি (র্যাব) বা সেনাবাহিনীকে নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হলে তা অধিক কার্যকর ও দায়িত্বের ভার বণ্টনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে তাদের অভিমত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, যৌথ অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, অপরাধীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ঢাল হতে পারে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দল বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।
তিনি বলেন, দলে অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির স্থাপন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এরপর আর কোনো বার্তা বাকি থাকার কথা নয়।