তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পদ্ধতি নিয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক বৈঠকে এই বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব উঠে আসে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।
বৈঠকে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদসহ প্রায় ৪৪ জন অংশ নেন। আলোচনার একটি প্রধান দিক ছিল উচ্চকক্ষ গঠন। বিশেষজ্ঞ ও কমিটির সদস্যদের মতে, যদি উচ্চকক্ষ গঠন করা হয় এবং সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা বহাল থাকে, তবে সেই উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি সাজানো সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, উচ্চকক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে এবং তাকেই উচ্চকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা যায়। এর বিকল্প হিসেবে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে অন্য কাউকে স্পিকার পদে নির্বাচন করা যেতে পারে। পরবর্তীতে সেই স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা নিয়োগের একটি আইনি কাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে আইডিয়া দিয়েছেন এভাবে যে, যদি উচ্চকক্ষ গঠিত হয় এবং উচ্চকক্ষ যদি সংসদের একই মেয়াদে ডিজলভ বা বিলুপ্ত না হয়; অর্থাৎ সেই ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ যদি থেকেই যায়, তবে উচ্চকক্ষের মধ্যে কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকারের।
বৈঠকে প্রখ্যাত আইনজীবী ড. শাহদিন মালিক, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খানসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের মতামত ও প্রস্তাবনাগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।