মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকে নতুন এমডি নিয়োগ দিল সরকার সাপ ধরে হাসপাতালে বৃদ্ধ: গোখরা কামড় খেয়েও দমে যাননি তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য: টিআইবি ও অধিকারের তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ ব্যালন ডি’অর কি এবার এমবাপের হাতে উঠছে? আকামার মেয়াদ ফুরোলেও সৌদিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরা জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শীতে পানিশূন্যতা রোধে যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি ডা. শাহাদাতের প্রশাসক নিয়োগ বাতিল চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি জাপানের সহায়তায় প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর নরসিংদীতে বাসে ১৪০ রাউন্ড গুলিসহ আটক এক নারী

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য: টিআইবি ও অধিকারের তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ

Reporter Name / ৭ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পুলিশ পিছপা হবে না—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের এই বিতর্কিত বক্তব্যের কড়া নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। সোমবার এক যৌথ প্রতিক্রিয়া ও পৃথক বিবৃতিতে সংস্থা দুটি আইজিপির এমন অবস্থানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ঢাকার প্রয়াস এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং তা না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে পদ থেকে অপসারণের দাবি তোলা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশপ্রধানের এমন বেপরোয়া ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের প্রচ্ছন্ন ছাড়পত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিবৃতিতে অধিকার মনে করে, পুলিশের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির এই ধরনের বক্তব্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দ্বারা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ছাড়পত্র দেবার শামিল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, পুলিশ প্রধানের এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার দায় এড়ানোর চেষ্টা মাত্র। সরকারের অনুমতির কথা বলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা মূল অপরাধ দমনে পুলিশের ব্যর্থতারই প্রকাশ ঘটায়। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশের মূল দায়িত্ব হলো পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনা, অপরাধী চিহ্নিতকরণ এবং প্রমাণের ওপর ভর করে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ক্রসফায়ারের পথ বেছে নেওয়া পেশাগত দেউলিয়াত্বেরই অন্য রূপ, যা কোনোভাবেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমাধান হতে পারে না। যার দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্যে থেকে পরিচালনা করা, তিনিই ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনলে তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, আইজিপি এক বাক্যে আইন ও সংবিধান মানার কথা বলছেন, আর পরক্ষণেই সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের ওপর জোর দিচ্ছেন—এই দুই অবস্থান একে অপরের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে দেশের নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা এবং জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, যা কোনো নির্বাহী আদেশে বাতিল করা যায় না। যতই গুরুতর অভিযোগ থাকুক না কেন, বিচার এড়িয়ে কাউকে হত্যা করার কোনো আইনি অধিকার পুলিশের নেই। অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক, সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এসবে বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারই উন্মোচিত হয়েছিল, যা থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে তা পুলিশপ্রধানকেই ব্যাখ্যা করতে হবে। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিবারের প্রকাশ করা অডিও এবং হত্যার অভিযোগও ব্যাপক প্রশ্ন তুলেছিল। অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার এখতিয়ার পুলিশের নেই।

সরকারের নীতিগত অবস্থানের বৈপরিত্য তুলে ধরে টিআইবি জানায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেশের আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেছিলেন যে সরকার সন্ত্রাস মোকাবিলায় কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত পথ বা ক্রসফায়ারের আশ্রয় নেবে না এবং বিদ্যমান আইনেই সমাধান করা হবে। সরকারের এই ঘোষিত অবস্থানের পর পুলিশ প্রধান কীভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দেন, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাবদিহি চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। টিআইবি জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কেবল জীবন রক্ষার অনিবার্য পরিস্থিতি ছাড়া প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো সীমিত আইনি সুযোগকে এভাবে ঢালাও হত্যার অনুমোদন হিসেবে প্রচার করা বেআইনি এবং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।

সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে আইজিপির মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেছে টিআইবি। সংস্থাটি মন্তব্য করে, কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া গণমাধ্যমের ওপর ঢালাও অভিযোগ আনা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ওয়াচডগ হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা নস্যাৎ করে। পুলিশের ভেতরের কাজের পরিবেশ তৈরি কিংবা সক্ষমতার ঘাটতি কোনো অবস্থাতেই বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনাকে এড়িয়ে যাওয়ার ছুতো হতে পারে না বলে মনে করে সংস্থাটি।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ তাদের বিবৃতিতে জানায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, নির্যাতন এবং ব্যাপক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, যার জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবকে (বর্তমানে এসআরবি) কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। তৎকালীন সময়ে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িত অনেকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। অধিকার উল্লেখ করে, বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পরও অন্তত ৫টি বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা তাদের নথিবদ্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইজিপির এই মন্তব্য মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিচারবহির্ভূত হত্যার অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দেবে। সংস্থাটি অবিলম্বে এই মন্তব্য প্রত্যাহার এবং নতুন সংঘটিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। ঐ সময়ে ভিন্নমভাবলম্বী ও রাজনৈতিক নেতা কর্মী সহ সাধারণ মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছিলেন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতিমধ্যে ৫ টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অধিকার ডকুমেন্ট করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা