বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান

সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, কর্মসূচিতে যা থাকছে

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বৃহস্পতিবার সুন্দরবন ও বাগেরহাটের মোংলা বন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন। দিনের এই সফরের শুরুতেই সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে যাত্রা করে ১০টার দিকে তিনি আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে নৌপথে বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিনের সফরে তিনি সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুরে মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ড রুমে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ড রুম সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় অংশগ্রহণ করবেন। বিকেলে তাঁর বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও নতুন জেটি নির্মাণের স্থান পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বিকেল ৫টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এ ছাড়া চীনা বিনিয়োগে গড়ে ওঠার পরিকল্পনায় থাকা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সম্ভাব্য শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ এবং দেশের অর্থনীতিতে এর সুফল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস মোংলায় এনে অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত আগস্টে নৌপরিবহন ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এলাকাটি পরিদর্শন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করবেন, যা স্থান চূড়ান্তকরণ ও পরবর্তী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে গত ১০ অক্টোবর।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চীন সরকার এই প্রকল্পে ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। এই প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঋণচুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব আলিয়া মেহের এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফেংজুন তিয়ান স্বাক্ষর করেছেন। গত ১২ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ জানায়, চুক্তির আওতায় চীন সরকার প্রকল্পটির জন্য ২ দশমিক ৪০৪ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান ঋণ দেবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ব্যাপক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল জানান, এই সফরে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গুরুত্ব পাবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের মোংলায় বিনিয়োগের ঘোষণা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে কারখানা স্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে। এছাড়া বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চলের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, বন্দরের নতুন জেটি নির্মাণের স্থান পরিদর্শন এবং চ্যানেলে সঠিক ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানো হলে বড় জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হবে। বণিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর ঘিরে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা এই সফরের মাধ্যমে আরও বেগবান হবে।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও লঞ্চ বডি মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল আলম বলেন, পর্যটনশিল্প বিকাশে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এছাড়া বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান জাহানারা অ্যান্ড সন্সের মাহবুবুর রহমান মানিক মনে করেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অমীমাংসিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা হলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং চীনা বিনিয়োগের বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা