চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কোনো বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শুরু করে কুতুবদিয়া বহির্নোঙর পর্যন্ত সকল কার্যক্রম স্থবির করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিক ও কর্মচারী নেতৃবৃন্দ। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বন্দর প্রশাসনিক ভবনের প্রবেশমুখে আয়োজিত এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত। চুয়েটে আন্দোলন ও উপাচার্য সংকট: কারণ ও প্রেক্ষাপট।
আন্দোলনকারীরা কেবল এনসিটি নয়, বরং বর্তমানে চালু থাকা চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া থেকেও সরে আসার দাবি জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহীম খোকন বলেন, এনসিটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বন্দর শ্রমিকরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রামকে বিজনেস হাব বানানোর দোহাই দিয়ে বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে নিহত ২, আহত ৫। চট্টগ্রামকে বিজনেস হাব করার সঙ্গে এনসিটির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোকন বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের পাড়ে যত ইচ্ছা স্থাপনা নির্মাণ করে তা বিদেশিদের দিয়ে দিন। ‘বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীসহ আজ যারা এখানে সমবেত হয়েছেন, এই শহরের সব পেশাজীবী, রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্রসমাজ মনে করে—এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের হৃদপিণ্ড, এটা কাউকে বন্ধক দেওয়া যাবে না,’ যোগ করেন খোকন।
ইব্রাহীম খোকন আরও বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ বন্দর বেসরকারিকরণ বা বিদেশি অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়ার নজির নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৮ তারিখে চুক্তি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া শোনা যাচ্ছে; এমন চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর ও কুতুবদিয়া পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। শ্রমিকরা গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর আস্থা রাখলেও তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এক্সপ্লেইনার / ১০৯ বছর পর বদলে যাচ্ছে ব্রিটেনের ইসরায়েলনীতি। শেষ মুহূর্তেও দেখা নেই ইলিশের, জেলেরা হতাশ। ‘বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যা বলেছিল, সেই একই কথা আমাদের বর্তমান সরকারও বলছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে চান কেন এই বন্দর বিদেশিদের হাতে দেওয়া উচিত নয়। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি তপন দত্ত এবং পরিচালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত একটি খসড়া কনসেশন চুক্তি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করেছে। এই চুক্তির আওতায় একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরকে ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি অশোক সাহা এবং সমাজতান্ত্রিক পার্টির (মার্কসবাদী) জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন কবির আবিদ। তারা এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনায় প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন প্রক্রিয়া বাতিল, সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ প্রত্যাহার এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানান।