চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভিসি) যোগদানের খবরে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ক্যাম্পাসে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে দেননি। তবে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেননি, তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন।
চলমান এই আন্দোলনের জেরে গত ১৭ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে সরব রয়েছেন। তারা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই ড. সায়েমকে অপসারণ করা হয়েছে, যা অগ্রহণযোগ্য। তবে চুয়েটে অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও উদ্যাগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মানববন্ধন এবং গণস্বাক্ষরসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। চুয়েট শিক্ষক সমিতিও এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় এই অপসারণের সিদ্ধান্ত আসার পরপরই শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর ড. সায়েম শিক্ষার্থীবান্ধব নানা পরিকল্পনার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিকায়নে কাজ করছিলেন। দ্রুত তাকে স্বপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। চুয়েটের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৬ দিনের মধ্যে শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে চুয়েটকে আধুনিকায়নের চেষ্টা করেছেন।