নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে ড. ইউনূস বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বেরিয়ে আসার সময় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও কটূক্তি করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে যে, ওই তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে এই গ্রেপ্তারের দাবিকে ‘সম্পূর্ণ গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি এ ধরনের প্রচারণাকে ‘ইউনূসের বট বাহিনীর সৃষ্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরীও গ্রেপ্তারের খবরটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত ডিটেকটিভ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, তিনি পুরো ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনাস্থলটি এয়ারপোর্ট পুলিশের আওতাধীন। ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ উপস্থিত থাকলে এবং কেউ হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানালে, তারা আইন অনুযায়ী ভায়োলেশনের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নিতে পারত বা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে নির্দেশ দিত। কিন্তু বর্তমানে যদি আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়, তবে পুলিশ কেবল একটি নোট নিতে পারে। এর বাইরে পুলিশের তেমন কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ড. ইউনূসকে হেনস্তার ওই ঘটনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের।