বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন জাপানি বিনিয়োগ এবং এর ফলে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে এ বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারি জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই নেতা এ উপলক্ষে ঘোষিত বড় ধরনের বিনিয়োগ উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানান। তাঁরা টেকসই সরবরাহব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনকে স্বাগত জানান এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় আরও অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও অবকাঠামো উন্নয়ন

দুই প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়ন একযোগে এগিয়ে নেওয়া, শিল্প মূল্য শৃঙ্খলের একটি বড় কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে বাণিজ্য ও সরবরাহের একটি প্রবেশদ্বার তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছেন। এ উদ্যোগের চারটি অগ্রাধিকার হলো— যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা; শিল্প অবকাঠামো জোরদার করা; এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি ও রূপান্তর ত্বরান্বিত করা। এ কাঠামোর আওতায় দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ শিল্প ও বাণিজ্য হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রক্ষার ওপর যৌথ বিবৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। তাঁরা ঢাকায় এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধ পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সামুদ্রিক কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনে প্রতিফলিত আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির গুরুত্বও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘে সহযোগিতা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ। তাঁরা পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) বহাল রাখা ও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে তারেক রহমানের সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানান। উৎপাদন, খাদ্য ও কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং ওষুধশিল্পে পরিপূরক ও টেকসই সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। তাকাইচি বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে তারেক রহমান সরকারের বিনিয়োগ পরিবেশ সংস্কার এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রসারে নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ প্রেরণ এবং লাইসেন্স প্রদানসংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও এ অঙ্গীকার প্রযোজ্য হবে বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরকে দুই নেতা স্বাগত জানান। এছাড়া সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরকেও তাঁরা স্বাগত জানান। তাঁরা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানান। রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব বলে দুই নেতা একমত হন।

অর্থনৈতিক সহায়তা, ঋণ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত

বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে প্রতিশ্রুত ইয়েন ঋণ প্রকল্পটিকেও দুই নেতা স্বাগত জানান। এতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম হবে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখতে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন তাকাইচি। তাঁরা জাপান-বাংলাদেশ যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্ল্যাটফর্ম এবং বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো প্রধান উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই নেতা। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক কল্যাণ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সুশাসন বজায় রেখে ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন তাঁরা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। তাকাইচি বলেন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। দুই নেতা অবাধ, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়াকে তাঁরা স্বাগত জানান।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু টেকসইকরণ

জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটিই জাপানের প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প। বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সমর্থনের কথা জানান তাকাইচি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তেলের মজুত বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জ্বালানি ট্রানজিশনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমার সংকট। পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারা জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা এবং নিরাপদ ডিজিটাল যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-কার্বন উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন, জ্বালানি দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি অভিপ্রায়পত্র স্বাক্ষরিত হয়। এ সহযোগিতার আওতায় জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই নগর উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। স্থানীয় সরকারগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইয়েন ঋণ কর্মসূচির আওতায় ‘উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-২)’ প্রকল্পের জন্য অর্থায়নের প্রতিশ্রুতিকে দুই নেতা স্বাগত জানান।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক কূটনীতি

দুই প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতির প্রতি তাঁদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারসহ একটি কার্যকর জাতিসংঘ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

  • বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি।
  • উত্তর কোরিয়া কর্তৃক জাপানি নাগরিকদের অপহরণ সমস্যার অবিলম্বে এবং চূড়ান্ত সমাধানের আহ্বান জানান উভয় শীর্ষ নেতা।
  • কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যৌথ প্রয়াস অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
  • বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতের আধুনিকায়নে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির সরকারের ও জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সফরকালে ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান। সূত্র: বাসস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা