মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের ওপর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরবর্তী প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
দিনের কোনো এক পর্যায়ে এর দাম ১১৮ ডলার স্পর্শ করে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এর দাম ১১৮ ডলারেও পৌঁছায়।
তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিও বাজারকে চাপে ফেলেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মাত্র একদিনেই সুপারট্যাংকারকেন্দ্রিক চারটি আলাদা ঘটনা ঘটেছে। আইআরজিসির ভাষ্যমতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পথে চলাচলের সময় দুটি ট্যাংকার পানির নিচে রাখা মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন ঘটনায় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে একের পর এক ঘটনার কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।