রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু: পতাকা বৈঠকের আহ্বান ঢাকায় প্রসূতির মৃত্যুতে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ, মিয়ামি কনস্যুলেটে প্রবাসীদের স্মারকলিপি সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীতে বালু লুট ঠেকাতে পুলিশের অভিনব সিসি ক্যামেরা নজরদারি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৯ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সন্ধান লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের আগ্রাসন: বাস্তুচ্যুত ৫০ হাজার ইয়েমেনি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা নিরসনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান শি জিনপিংয়ের, ব্রিকস সম্মেলনে জোর মোদির বিএনপি স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটছে, কথা দিয়ে কথা রাখছে না: নাহিদ ইসলাম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা আদাবরে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক দল

বগুড়া জেলা পুলিশে ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: তদন্তে ৮ জন

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বগুড়া জেলা পুলিশে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জেলা পুলিশের ছয় সদস্য, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের এক অফিস সহকারী এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের এক অডিটরসহ মোট আটজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মানিকুর রহমান বিল-ভাউচার যাচাই করতে গিয়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে রাজিবুল জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন এবং চক্রের অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন।

এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৬ আগস্ট পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আসাদুজ্জামানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাদের ব্যাংক হিসাবের অস্বাভাবিক লেনদেন, অনলাইনে দাখিল করা বিল-ভাউচার ও সরকারি অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করছে।

তদন্ত কমিটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম, কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফ, আমিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দীন, রাজু আহম্মেদ ও সোলাইমান হোসেন, জেলা বিশেষ শাখার এএসআই কমল হোসেন এবং জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলম। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ও অতিরিক্ত টিএডিএ বিল অনলাইনে দাখিল করত, যা অডিটর ফিরোজ আলম যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দিতেন। এরপর সরকারি অর্থ চক্রের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে ভাগ-বাটোয়ারা হতো।

ব্যাংক লেনদেনের তথ্যে দেখা যায়, কমিউনিটি ব্যাংকের বগুড়া শাখায় কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফের হিসাবে ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এছাড়া এএসআই কমল হোসেনের হিসাবে গত এক বছরে প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং অন্যদের হিসাবে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা করে জমা হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, মূল পরিকল্পনাকারী রাজিবুল ও অডিটর ফিরোজ নিজেদের হিসাবে টাকা না নিয়ে অন্য পুলিশ সদস্যদের হিসাবে অর্থ পাঠাতেন, যা পরে নগদ তুলে নেওয়া হতো।

অভিযুক্ত এএসআই কমল হোসেন তার হিসাবে ৩২ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকার উৎস সম্পর্কে জানেন না বলে দাবি করেছেন। অপর এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, তার হিসাবে আড়াই লাখ টাকা জমা হওয়ার পর তিনি ৫০ হাজার টাকা রেখে বাকি দুই লাখ টাকা রাজিবুলের কাছে ফেরত দিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কনস্টেবল আসাদুজ্জামান আরিফ ফোন বন্ধ করে দেন এবং রাজিবুল ইসলাম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অডিটর ফিরোজ আলমকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি এবং পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এখন জড়িতদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা