রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের আগ্রাসন: বাস্তুচ্যুত ৫০ হাজার ইয়েমেনি মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা নিরসনে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান শি জিনপিংয়ের, ব্রিকস সম্মেলনে জোর মোদির বিএনপি স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটছে, কথা দিয়ে কথা রাখছে না: নাহিদ ইসলাম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলো ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা আদাবরে উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সিআইডির ফরেনসিক দল জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আবরার ফাহাদ আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক: রাশেদ খাঁন জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার নেপথ্যে চীনা স্যাটেলাইট ছবি: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ভারত সফরে পুতিনের রহস্যময় ‘ডুমসডে প্লেন’: আকাশপথে উড়ন্ত ক্রেমলিনের বিশেষত্ব

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো ব্রিকস (বিআরআইসিএস) সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা। শুক্রবার ভোরে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি নয়াদিল্লিতে অবতরণ করেন। বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পরিচিত পুতিনের এই সফরেও নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। আর সেই নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই ফের বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে তার বিশেষায়িত উড়োজাহাজ, যা ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত।

নিরাপত্তার কৌশল: একই সাথে দুটি বিমান

পুতিনের আকাশপথের নিরাপত্তায় সাধারণত একই ধরনের দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইইউ বিমান একসঙ্গে উড্ডয়ন করে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো বিভ্রান্তি তৈরি করা। দুটি বিমানের একটিতে প্রেসিডেন্ট থাকেন, আর অন্যটি ডিকয় বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই সময়ে দুটি বিমান আকাশে থাকায় পুতিন ঠিক কোনটিতে অবস্থান করছেন, তা বাইরে থেকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের বিদেশ সফরে এই বিশেষ নিরাপত্তা কৌশলটি নিয়মিতভাবে ব্যবহার করে আসছে।

বিমানের গঠন ও কারিগরি সক্ষমতা

পুতিনের জন্য ব্যবহৃত এই বিশেষায়িত আইএল-৯৬-৩০০পিইইউ বিমানটি মূলত ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরোর তৈরি আইএল-৯৬-৩০০ মডেলের একটি ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত সংস্করণ। আশির দশকে নকশা করা এই দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজটি কেবল রাষ্ট্রপ্রধানকে বহন করার জন্য নয়, বরং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করার সক্ষমতা রাখে। চার ইঞ্জিনের এই শক্তিশালী বিমানটি একবার জ্বালানি ভরে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এতে এভিডভিগতাল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। বিমানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিমান চলাচলের দায়িত্বে থাকা বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রন এটি পরিচালনা করে থাকে।

সুরক্ষিত যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

  • বিমানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থা।
  • এতে এনক্রিপ্টেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সম্ভব।
  • স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুরক্ষিত রেডিও ও ডাটা চ্যানেল এবং রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি বিমানটিকে সাধারণ উড়োজাহাজের চেয়ে বহুগুণ বেশি সুরক্ষিত করে তোলে।
  • যুদ্ধ কিংবা বড় ধরনের জাতীয় সংকটের সময়ও এটি রুশ নেতৃত্বের জন্য একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

বিলাসিতা ও অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধা

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি পুতিনের এই বিশেষ বিমানটি বিলাসবহুল সুবিধার জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিমানের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্টের জন্য আলাদা স্যুট, শোবার ঘর, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর এবং খাবারের জায়গা রয়েছে। এছাড়া বড় আকারের একটি সম্মেলন কক্ষ রয়েছে, যা অনেকটা বোর্ডরুমের আদলে তৈরি। বিমানের ভেতরের সাজসজ্জায় উন্নতমানের কাঠ, চামড়া এবং কোথাও কোথাও সোনার প্রলেপ দেওয়া ফিটিংস ব্যবহার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পুতিনের এই ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ একই সঙ্গে একটি বিলাসবহুল প্রেসিডেন্টিয়াল বিমান, নিরাপদ যোগাযোগকেন্দ্র এবং আকাশে পরিচালনাযোগ্য কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে। ভারত সফরে পুতিনের এই বিশেষ বিমান ও এর নিরাপত্তাব্যবস্থা তাই ব্রিকস সম্মেলন ও তার রাজনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও আলাদা করে কৌতূহল তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৮০-এর দশকে ইলিউশিন ডিজাইন ব্যুরো এই দীর্ঘপাল্লার উড়োজাহাজের নকশা তৈরি করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা