সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কেন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ধরে রেখেছে আমিরাত? ঢাকার যানজট ও হকার সমস্যা নিরসনই বড় চ্যালেঞ্জ: ডিএসসিসি প্রশাসক বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী শেভরন ঢাকার দুই সিটিতে নাসির ও আসিফকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির ভারত নিয়ে সবসময় চিন্তার দরকার নেই, নিজেদের কথাও ভাবতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাংবাদিকের মৃত্যু প্রেক্ষাপট: সায়মা ওয়াজেদের ডব্লিউএইচওর পদে নিয়োগ সঠিক প্রক্রিয়ায় হয়নি জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ইয়েমেনের জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত, হুথিদের সমর্থনে বার্তা ইরানি নেতৃত্বের আবারও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলো আদানির গোড্ডা কেন্দ্র

ঢালু এলাকা রক্ষায় বিন্না ঘাস ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ে ৩৪ সদস্যের কমিটি গঠন

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঢালু জায়গা ও অবকাঠামো সুরক্ষায় বিন্না ঘাস বা ভেটিভার ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আটজন প্রতিমন্ত্রী ও ১৬ জন সচিবসহ মোট ৩৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করে, যা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি মূলত উন্নয়ন প্রকল্পের ঢালু জায়গা সুরক্ষায় বিন্না ঘাসের কার্যকারিতা ও ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। কমিটিতে পরিকল্পনা কমিশন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বুয়েটের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য যুক্ত করতে পারবে।

কমিটির মূল কাজের পরিধির মধ্যে রয়েছে সড়ক, মহাসড়ক, নদীতীর, খাল, হাওর ও বাঁধের পাশে বিন্না ঘাস রোপণের উপযোগিতা যাচাই করা। পাশাপাশি প্রতি কিলোমিটার এলাকায় এই ঘাস লাগাতে কী পরিমাণ খরচ হবে এবং কী পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন পড়বে, তা নিরূপণ করা হবে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলার সড়কের ঢাল, লেকের পাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে এই ঘাস লাগানোর সম্ভাব্যতাও খতিয়ে দেখা হবে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট বিন্না ঘাস রোপণ নিয়ে আয়োজিত এক সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে মাটিকে শক্তভাবে আটকে রাখে, যা বৃষ্টির পানি, ঢেউ ও স্রোতের কারণে সৃষ্ট ভূমিক্ষয় রোধে অত্যন্ত কার্যকর। নদী ও খালের পাড়, বাঁধ এবং পাহাড়ের ঢালে এই ঘাসের ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অবকাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বিন্না বা ভেটিভার মূলত একটি বহুবর্ষজীবী সুগন্ধি ঘাস, যা বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। লবণাক্ত বালু থেকে শুরু করে পলিমাটি—যেকোনো ধরনের মাটিতেই এটি টিকে থাকতে পারে। মাটি স্থিতিশীল রাখতে এবং ভূমিক্ষয় রোধে বিশ্বের শতাধিক দেশে এই ঘাস ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে বিশ্বব্যাংক মাটি ও পানি সংরক্ষণের জন্য ‘ভেটিভার সিস্টেম’ উদ্ভাবন করে, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

এই ঘাসের ঘন শিকড় পানির প্রবাহ ধীর করে, পলি ধরে রাখে এবং পুষ্টি উপাদান ফিল্টার করতে সাহায্য করে। বাংলাদেশে জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় বাঁধ রক্ষায় এর সম্ভাবনা নিয়ে গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এমনকি ২০১৮ সালে বর্ষা মৌসুমের আগে দক্ষিণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরগুলোতে ভূমিক্ষয় ও ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম কয়েক লাখ বিন্না ঘাসের চারা বিতরণ করেছিল।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে তথ্য প্রকাশের আইন থাকলেও ৪৬টি সরকারি সংস্থা তা মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারী নিয়োগে ভাইভা নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। একইসঙ্গে সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন, যা আর্থিক খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তথ্য প্রকাশের আইন থাকলেও মানছে না ৪৬ সরকারি সংস্থা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস / অর্ধেক শিশুই পড়তে ও অর্থ বুঝতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও বিন্না ঘাসের ভূমিক্ষয় রোধের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা