জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কোনো বৈঠক হবে কি না—রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, ‘ব্রেকফাস্ট খাইতে ইন্ডিয়া, লাঞ্চ করতে ইন্ডিয়া, ডিনার করতে ইন্ডিয়া—তাহলে নিজের খাবার কখন খাবেন?’ তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভারতের বিষয়টি নিয়ে সবসময় আচ্ছন্ন হয়ে থাকা উচিত নয়। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ এবং তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা কাম্য, তবে কেবল তাদের নিয়েই ব্যস্ত থাকলে চলবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক প্রয়োজনে যার সঙ্গে যখন কথা বলার প্রয়োজন, বাংলাদেশ তা অবশ্যই করবে। তবে আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে সবার সঙ্গে বৈঠক করা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ প্রধানমন্ত্রীর সামনে অনেক আমন্ত্রণ থাকে। সম্পর্কের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে একটি স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত ও লুটেরা সরকারের সঙ্গে যে অস্বস্তিকর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ নতুন আঙ্গিকে সম্পর্ক সাজাতে চায়।
হুমায়ুন কবিরের মতে, এই সম্পর্ক পুনর্গঠনের কাজটি বহুপাক্ষিক ফোরামের বদলে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে হওয়াই শ্রেয়। ভারতের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সফরই সবচেয়ে ভালো মাধ্যম বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বহুপাক্ষিক ফোরামে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করা যাবে না—এমন কোনো অবস্থান তার নেই। তার মন্তব্য কেবল ভারতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কোনো বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে গেলে কারও সঙ্গে দেখা করা হবে না—এমন কথা কখনো বলা হয়নি।’