বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি

জাতিসংঘ সফর সংক্ষিপ্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Reporter Name / ৭২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রায় চার দশক পর কোনো বাংলাদেশি কূটনীতিকের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং একই সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের ভাষণ—এমন এক বিরল ও ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছেন। সরকারি ব্যয় সংকোচন ও দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান না করার নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে তিনি তার সফর সংক্ষিপ্ত করেছেন। বিশেষ করে, জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে যে সফরসূচি ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান। সূচি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত বিশেষ নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের পরবর্তী দিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় তার অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। মূলত সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় এবার তার যুক্তরাষ্ট্র সফর নিউইয়র্ককেন্দ্রিকই থাকছে। এর আগে সানফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সব পরিকল্পনা অপরিবর্তিত থাকলে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরসঙ্গীর বহরের ক্ষেত্রেও এবার বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে সীমাবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আগের সরকারগুলোর আমলে জাতিসংঘ সফরে অত্যন্ত বড় বহর পাঠানোর দীর্ঘ নজির রয়েছে। যেমন, ২০১৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে ১৮০ জন এবং ২০১৯ সালে ২৯২ জন সফরসঙ্গী নিউইয়র্ক গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা সরকারি নথিতে ৮০ জনের বেশি ছিল। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধ ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এবার সফরসঙ্গীদের তালিকা সংকুচিত করা হচ্ছে, যেখানে কেবলমাত্র নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার কথা বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গণতান্ত্রিক উত্তরণ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাতের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের কার্যকর ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি তার বক্তব্যে উঠে আসবে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও সরকারের রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান ও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। এ ইস্যুতে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু কর্মসূচি থাকলেও সফরের প্রধান আয়োজন থাকবে জাতিসংঘকে ঘিরেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে আয়োজক হিসেবে থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ এর কম হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯২ জনে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা