জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কাঁকড়া পিংলু উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। মাথা ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তির কথা জানানোর এক পর্যায়ে কয়েকজন ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে উপজেলা মহীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনুর রশিদ জানান, ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার। সেসময় সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় এক ছাত্রী হঠাৎ পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। তখন তাকে প্রাথমিক সেবা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। সেই রেশ না কাটতেই বুধবার আবারও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শ্রেণিকক্ষে অবস্থানকালে আরও ১৮ জন ছাত্রী একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অসুস্থ ছাত্রীদের মধ্যে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল রওজা জান্না জানায়, স্কুলে আসার পরপরই তার মাথা ব্যথা শুরু হয়। প্রথম ক্লাস শেষ করার পর ব্যথার তীব্রতা বেড়ে গেলে সে বেঞ্চে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসও জানিয়েছে, স্কুলে তার তীব্র মাথা ব্যথা অনুভূত হয়েছিল, তবে ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটেছে তা তারা বুঝতে পারছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল জানান, বিকেলের দিকে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি। ভর্তি হওয়া ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে দু-একজনের শারীরিক অবস্থা কিছুটা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আজ স্বাস্থ্য বিভাগের দুজন সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একজন একাডেমিক সুপারভাইজারসহ তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক ঘটনা’ হিসেবেই ধারণা করছেন। তবে ঠিক কী কারণে হঠাৎ এত শিক্ষার্থী একই সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, পরদিন বুধবার আবারও স্কুল চলাকালে হঠাৎ বিভিন্ন শ্রেণির আরো ১৮ জন ছাত্রী একইভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়।