যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মুসলিম আমেরিকান রাজনীতিকদের নিয়ে বিতর্ক ও উত্তাপ তৈরি হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিয়মিতভাবে মুসলিম রাজনীতিকদের নিশানা করছেন, যা নিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবির ও বিভিন্ন মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব মহলের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনার আড়ালে ক্রমেই মুসলিম পরিচয়কেন্দ্রিক ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা বেড়ে চলেছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এমন কয়েকজন রাজনীতিক, যাদের মধ্যে এল-সায়েদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এল-সায়েদ তার বিরুদ্ধে আনীত নানা অভিযোগের সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে যেভাবে ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সাধারণ রাজনৈতিক মতবিরোধ নয়। বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে উসকানিমূলক এবং সহিংসতার দিকে ধাবিত করার শামিল, যার তীব্র নিন্দা হওয়া প্রয়োজন। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর-এর মতো প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠনগুলোও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে মুসলিম রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে শরিয়া আইনের প্রসঙ্গটি বারবার সামনে আনা হচ্ছে। সম্মেলনে ক্রুজের দেওয়া বক্তব্যে শরিয়া আইনকে মার্কিন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এল-সায়েদ তার বিরুদ্ধে তোলা শরিয়া আইন সমর্থন সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। রিপাবলিকান কৌশলবিদরা পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলছেন, তাদের আক্রমণের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা পরিচয় নয়, বরং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শ। রিপাবলিকান কৌশলবিদ ব্রায়ান সাইটচিক দাবি করেন, সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদবিরোধী দর্শনের বিরোধিতাই তাদের মূল উদ্দেশ্য, যা কোনোভাবেই মুসলিমবিরোধী নয়।
নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপে ভ্যান্সের মতো নেতারাও যুক্ত হয়েছেন। ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন যে, এল-সায়েদের বিভিন্ন মন্তব্য তার পরিবারের ভাবমূর্তিকে অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়া ধর্মীয় পরিচয়, শরিয়া আইন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার ভাষা ব্যবহার ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারণায় বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অর্থনীতি, অভিবাসন ও অপরাধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পাশাপাশি এই সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংঘাত ভোটারদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম রাজনীতিকদের নিয়ে নানা বিতর্ক হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রশাসক মেহমেত ওজ ২০২২ সালে পেনসিলভানিয়া থেকে রিপাবলিকান সিনেট মনোনয়ন পেয়েছিলেন, যা তৎকালীন সময় বেশ আলোচিত ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারার ভিন্নতর চর্চা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিচয়ের এই সংকট এখন মার্কিন নির্বাচনী প্রচারণার এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদকে অভিবাসন, অপরাধ, সমাজতন্ত্র ও শরিয়া আইনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তীব্র সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনকেন্দ্রিক সম্মেলনে বিতর্কটি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁর বক্তৃতায় মামদানি, এল-সায়েদ ও টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী জেমস তালারিকোর নাম উল্লেখ করে শরিয়া আইন ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বামঘেঁষা রাজনীতির সমালোচনা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় দর্শকসারি থেকে ‘তাকে গুলি করা উচিত’ বলে চিৎকার শোনা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে কারণ সম্মেলনে একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংগঠনটির বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার আহ্বানের মতো বক্তব্যের নিন্দা না করলে তা রাজনৈতিক সহিংসতাকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি সৃষ্টি করে এবং জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও তাঁর বক্তব্যে রাজ্যে শরিয়া আইন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন।