বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার গত ১২ আগস্ট থেকে কাঁচাবাজার, হাসপাতাল, ফার্মেসি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যতীত সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। একই সাথে সব আলোকিত বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি এই নির্দেশনা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর মহানগরীর রেসকোর্স, ঝাউতলা, বাদুরতলা, স্টেশন রোড, রাজগঞ্জ, চকবাজার, পদুয়ারবাজার, টমসমব্রীজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দোকানপাট খোলা থাকতে দেখা যায়।
নির্ধারিত সময়ের পরও কাপড়, জুতা, স্টেশনারি, ফল, হার্ডওয়্যার, মোটর পার্টস, প্লাস্টিক সামগ্রী, টাইলস, টায়ার-টিউব ও দুধসহ নানা ধরনের ভোগ্যপণ্যের দোকান গভীর রাত ১১টা বা ১২টা পর্যন্ত খোলা রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দোকানিরা। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পেট্রোল পাম্প ও হোটেলগুলোতে আলোকসজ্জার সরকারি বিধিনিষেধ মানার বালাই নেই; বরং অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করতে দেখা গেছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বাজারগুলোতেও একই পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনার শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছুটা কঠোরতা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে সেই নজরদারি স্থিমিত হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের এই গা-ছাড়া ভাবের সুযোগ নিয়েই ব্যবসায়ীদের মাঝে আইন অমান্য করার প্রবণতা বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখলে যে পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়, তা অত্যন্ত নগণ্য। ফলে জরিমানা দিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতির চেয়ে দীর্ঘ সময় দোকান খোলা রেখে লাভের অঙ্ক বেশি হওয়ায় কোনো ব্যবসায়ীই শাস্তিকে ভয় পাচ্ছেন না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এদিকে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা প্রশাসকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মূলত প্রশাসনিক তদারকির অভাবে সরকারি ঘোষণা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাত ১১/ ১২টা পর্যন্ত ঘোষণার বাইরে থাকা কাপড়, জুতা, স্টেশনারি, ফল, হার্ডওয়্যার কোল্ডড্রিঙ্ক, মটর পার্টস, সিগারেট, প্লাস্টিক পণ্য, পুরাতন লোহা, টাইলস্, টায়ার, টিউব, দুধসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত সময়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্র জানায়, ঘোষণার প্রথম দিকে প্রশাসন থেকে একটু কড়াকড়ি থাকলেও দিন যত গড়াচ্ছে প্রশাসনের গা ছাড়া ভাবের কারণে দোকানিদের মাঝেও আইন মান্যের প্রবণতা বাড়ছে।