বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিগারেটের কাঁচামাল আমদানি

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ৩৬৩ টন সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল আমদানি ও অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার বড় একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা দল। এই অনিয়মের মাধ্যমে সরকার প্রায় ২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি। এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁসের পাশাপাশি আরও ৪টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একইভাবে কাঁচামাল আমদানির প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। সংশ্লিষ্ট এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানির আসল বিবরণী ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টম বন্দর দিয়ে খালাসের অপেক্ষায় থাকা ৪৮ টন ওজনের সিগারেট তৈরির কাঁচামাল অ্যাসিটেট টো’র একটি বড় চালান আটক করে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। গত ১৮ আগস্ট এই চালানটি আমদানি করেছিল মতিঝিল এলাকার ইউনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্য খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফাইজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড। এই চালানের মাধ্যমে কাস্টম বন্দর থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কিন্তু পরে গোয়েন্দা দল সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারে, ইউনিক ট্রেডার্স নামের ওই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বাস্তবে কোনো অফিস বা অস্তিত্বই নেই।

মতিঝিল এলাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের উপপরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন গত ১৯ আগস্ট সিআইসির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইউনিক ট্রেডার্সের ঠিকানায় গিয়ে কোনো দাপ্তরিক অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটি গত দুই কর মেয়াদে দাখিলপত্র জমা দিলেও সেখানে বিক্রির কোনো তথ্য দেখায়নি। এনবিআরের সিআইসি শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ২৪ আগস্টের নতুন সরকারি গেজেট প্রকাশের পর থেকে ভ্যাট নিবন্ধিত সিগারেট ও বিড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের সিগারেটের কাঁচামাল আমদানির সুযোগ নেই। তবে এই চালানটি গেজেট হওয়ার আগে আসায় খালাসের সুযোগ ছিল। কিন্তু জালিয়াতির আগাম তথ্য থাকায় সিআইসি চালানটি আটকে দেয়। পরে কোনো আমদানিকারক যোগাযোগ না করায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সংশ্লিষ্ট রাজস্ব পরিশোধ করেন।

আমদানি নথি থেকে জানা যায়, ইউনিক ট্রেডার্স বিগত ১ বছরে ৩৬৩ টন সিগারেটের কাঁচামাল দেশে নিয়ে এসেছে। এনবিআরের গোয়েন্দাদের দাবি, আমদানি করা এই বিশাল পরিমাণ কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহার করা হলে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব ছিল। এই চক্রটি আগের খালাস করা ৩৬৩ টন কাঁচামাল কোন কোন কারখানায় সরবরাহ করেছে এবং ভ্যাট পরিশোধ করেছে কি না, তার হিসাব চাওয়া হয়েছে। সঠিক হিসাব না দিলে নতুন চালানটি কোনোভাবেই ছাড় করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সিআইসি। পুরো ৩৬৩ টন কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত সিগারেটের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ও রাজস্ব হিসাব করে দেখা গেছে, সরকারের মোট ২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকার রাজস্ব এতে ঝুঁকিতে পড়েছে।

সিআইসির প্রকাশিত তথ্য ও সিগারেট প্রস্তুতকারকদের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, প্রতি কেজি অ্যাসিটেট টো বা স্ট্র থেকে আনুমানিক ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট তৈরি করা যায়। সেই হিসাবে আটক হওয়া ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা সিগারেট উৎপাদন সম্ভব ছিল, যা ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেটের (১০ শলাকা প্রতি প্যাকেট) সমান। মিডিয়াম সেগমেন্টের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে কর ও শুল্কের হার ৮২ শতাংশ ধরলে এ থেকে ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো। অন্যদিকে, উচ্চ সেগমেন্টের সিগারেটের মূল্য প্রতি প্যাকেট ১৬০ টাকা ধরে হিসাব করলে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা।

অস্তিত্বহীন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এভাবে সিগারেটের কাঁচামাল এনে কর ফাঁকি ও নকল সিগারেট তৈরির অবৈধ ব্যবসা বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০২৪ সালের ১ জুন ‘কাউন্সিলরের অবৈধ সিগারেট বাণিজ্য’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তৎকালীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল আলমকে প্রধান করে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটি একই বছরের ডিসেম্বরে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, একটি চক্র প্রায় ২০টি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নামে কাঁচামাল আমদানি করে নকল সিগারেট বানাচ্ছিল, যার মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না।

সেই সময় তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছিল যে, অনিবন্ধিত কোনো ট্রেডিং সংস্থাকে সিগারেটের কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দেওয়া যাবে না। তৎকালীন সরকার ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ করলেও এই কালোবাজারি থামানো যায়নি। অবশেষে গত ২৪ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমদানি নীতিমালা কঠোর করে শুধু আসল উৎপাদনকারীদের এই সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই অবৈধ কাঁচামালগুলো দেশের ঠিক কোন কোন কারখানায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত রয়েছে, তা বিশদভাবে খতিয়ে দেখছেন এনবিআরের গোয়েন্দারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৬৩ টন সিগারেটের কাঁচামাল খালাস, ২৪৫০ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বারিধারায় গাড়িচাপা: গতকাল আটক সেই কিশোরের নাম নেই মামলায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৮৬৬। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৯৮ কমিটি থেকে ‘আওয়ামীপন্থীদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে যা বললেন পেজেশকিয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ১১ টি প্রতিষ্ঠান অস্তিত্বহীন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমদানি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্স গত এক বছরে ৩৬৩ টন সিগারেট কাঁচামাল আমদানি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবারও বাড়ল সিগারেটের দাম, এবার শুধু নিম্নস্তরের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা