কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না এবং ইরান এর ‘পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ’ নিজের হাতেই রাখবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফভি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম ফার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই হুশিয়ারি দেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের এই নীতিগত অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় সামরিক উপদেষ্টা বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে যৌথভাবে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে সেই পুরো প্রক্রিয়াটিতে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এর আগে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে এবং দেশ দুটি যৌথ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে ওয়াশিংটন এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এই অঞ্চলে তেহরানের আধিপত্যের বিরোধিতা করায় দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।
মেজর জেনারেল সাফভি সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগরের সঙ্গে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালির সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত ও সামরিক সংযোগ তৈরি হলে পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের সমীকরণই বদলে যেতে পারে। এ সময় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রণকৌশল ও সামরিক স্বাবলম্বিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইয়েমেনি বাহিনী এখন অস্ত্র উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তাদের নিজস্ব লক্ষ্য অনুযায়ী তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
ভিডিও বার্তার শেষ অংশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এই সামরিক উপদেষ্টা বলেন, ইরানের ওপর যদি নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ কেবল পারস্য উপসাগর বা লোহিত সাগরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই সংঘাতের প্রভাব ভারত মহাসাগর এবং তারও দূরবর্তী সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।