আফগানিস্তানে ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রয়টার্সও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তারার জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ড্রোন প্রবেশের পর দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত, অনুসরণ ও নিষ্ক্রিয় করে। এরপর আফগানিস্তানের ১০টি স্থানে ‘নির্ভুল’ বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের দাবি, এসব স্থান থেকে ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণ করা হতো। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ড্রোন হামলার সাথে যুক্ত সামরিক স্থাপনাগুলো। হামলাগুলো নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে, বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা প্রকট। আফগান তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যার দায় তাদের ওপর চাপানোর বিরোধিতা করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। মার্চে যুদ্ধবিরতি হলেও সীমান্তপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
নতুন করে এই হামলার ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে। পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আফগান ভূখণ্ড থেকে ভবিষ্যতে কোনো হামলা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে। একই সাথে ইসলামাবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও সংলাপের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে। আফগান তালেবান সরকার এই নতুন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।