রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আবারও বিষধর কালাচ সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। রবিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে হলের ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুরনবী ইসলামের পায়ে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় শিক্ষার্থীর চিৎকারে রুমমেটরা জেগে ওঠেন এবং সাপটি দেখতে পান। এরপর দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ও পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর বর্তমানে তিনি আইসিইউতে পর্যবেক্ষণে আছেন। ভেরিফিকেশনে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রাথমিকের প্রার্থীদের শাহবাগে অবস্থান। বিশ্লেষণ / হাসিনা ইস্যু ঢাকা ও নয়াদিল্লির ওপর ছেড়ে দিল ওয়াশিংটন। এবার ঘুমন্ত এক শিক্ষার্থীকে কামড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। সেদিন ফার্মেসি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা মশারির ওপর সাপটি দেখতে পান।
নুরনবীর রুমমেট হাবিবুর রহমান জানান, এর আগেও হলে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর পর আশ্বাস দিয়ে খুব একটা লাভ নেই, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সাজ্জাদ শেখের মতে, কক্ষ অপরিচ্ছন্ন থাকলে সাপের উপদ্রব বাড়তে পারে। কালাচ সাপ সাধারণত উষ্ণতার খোঁজে বিছানায় উঠে আসে এবং শরীরের সংস্পর্শ পেলে দংশন করে থাকে। জমি নিয়ে বিরোধে স্টুডিও ভাঙচুর, ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জমি নিয়ে বিরোধ থেকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: পুলিশ।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর একই হলের তৃতীয় ব্লকের ১২১ নম্বর কক্ষ থেকে একটি কালাচ উদ্ধার করা হয়েছিল, যা তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার পর প্রশাসন হলের পেছনের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও জানালায় নেট লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে আজকের এই ঘটনার পর হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার জানান, ঘাস পরিষ্কার ও ব্লিচিং পাউডারের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও পাঁচতলায় সাপের উপস্থিতি কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে তারা চিন্তিত। এরপরও পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে যথাযথ উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হল সংসদ ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ। তিনি ড্রেনেজ উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত স্নেক নেট স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা কাম্য নয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানান, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। এছাড়া রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ পুরো হলে স্নেক নেট স্থাপন এবং আহত শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সময়সূচি স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।