ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দমনে একটি শক্তিশালী জোট গঠনের লক্ষ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আবুধাবিতে আয়োজিত এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিসহ আরব দেশগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নেতানিয়াহু হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ইয়েমেন ইস্যুতে এখনো স্পষ্ট সাড়া না পাওয়ায় রিয়াদের পক্ষে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সক্ষম সামরিক জোট পুনর্গঠনের জন্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এ বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) বাহিনীর পরাজয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা চরমে পৌঁছায়।
সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের পুনরায় পৃথক রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা ঠেকাতে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের মদতপুষ্ট হুতিদের আকস্মিক সামরিক সাফল্য নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। হুতিরা সরকারি বাহিনীকে পরাস্ত করে কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তাপুষ্ট তারেক সালেহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ার বিষয়টি বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর বিশেষজ্ঞ বারা শিবান জানান, হুতিরা বর্তমানে তাইজ শহর দখল করতে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। তিনি জানান, শহরের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ক্লান্ত করতে হুতিরা অবিরাম আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে তাদের পিছু হঠতে বাধ্য করা হচ্ছে, তবুও অন্য দিক দিয়ে তারা আবারও আক্রমণ জোরালো করছে। শিবানের মতে, সৌদি-আমিরাত বিরোধ মেটাতে আস্থার প্রতীক হিসেবে নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চলছে। তবে এসটিসির সাথে আমিরাতের সম্পর্ক থাকায় রিয়াদ তাদের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
ইয়েমেনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও এসটিসির সমর্থক খালেদ আল ইয়েমানি জানান, দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রিয়াদের বর্তমান কৌশলের পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’ হুতিদের দমনে সবচেয়ে কার্যকর ও সুসজ্জিত বাহিনী ছিল। এখন নতুন করে সমঝোতা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশ দুটি নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।