জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তাই নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের জনগণের কাছে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। শনিবার ৩ অক্টোবর রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধি—উভয় পক্ষেরই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের সেবা করা। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলকে নিজের এলাকা মনে করে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দেন তিনি। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের সংকটের সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি দপ্তরে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা এবং কর্মদক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সভায় নিশ্চিত করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী গ্রামীণ ছোট সড়কগুলোতে ইটের পরিবর্তে সিসি বা ইউনি ব্লক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে হাটবাজার ও বন্দর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং রাস্তার পাশে পুকুর খননের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ইজিবাইক নিবন্ধনের জন্য বর্তমানে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি সভায় জানান।
সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন, পূজা কমিটি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। এছাড়াও সভায় সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পৌরসভার প্রশাসকরা অংশগ্রহণ করেন।