কুমিল্লায় চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে ২৭ জন কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান। তিনি জানান, কিশোর গ্যাং দমনে জেলাব্যাপী পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৫০ জন কিশোরকে কারাগারে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব কিশোরের দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যরা ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছে।
এর আগে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা মহানগরসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বিত অভিযান শুরু হয়।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত পাঁচ ধাপের অভিযানে মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা প্রদানের শর্তে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬২৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাপক অভিযানের ফলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীর সংখ্যা বর্তমানে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি। জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, কারাগারটির ধারণক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০০ হলেও রবিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে বন্দীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত বন্দীর কারণে প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে, যা বন্দীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনায়ও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
নগরীর রানীর বাজার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম দুলাল বলেন, কিশোর অপরাধ দমনে এই অভিযান চলমান থাকা প্রয়োজন। অন্তত সপ্তাহে দুইবার এমন কার্যক্রম পরিচালনা করলে নগরীতে অপরাধপ্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। এদিকে জেল সুপার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নির্মাণাধীন চারটি নতুন বহুতল ভবন খুব শীঘ্রই উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা চালু হলে কারাগারের আবাসন সংকট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।