বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে নাশকতা ও ৯/১১ স্টাইল হামলার ছক

Reporter Name / ৪০ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে বড় ধরনের নাশকতার ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ওমানের নাগরিক ও ফ্লাইদুবাইয়ের ফার্স্ট অফিসার হামাম আল-হামামি বিমানটি ছিনতাই করে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ৯/১১ হামলার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, বিমানটির ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে হত্যার পর আল-হামামির লক্ষ্য ছিল বিমানটি চালিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানো এবং কোনো সুউচ্চ ভবন কিংবা অন্য কোনো বিমানের ওপর আছড়ে পড়া। তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জর্ডানের আকাশসীমায় বিমান থাকার সময় তিনি ক্যাপ্টেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্চারকে হত্যার পর তিনি। ইসরাইলের হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। সেখানেই তার টার্গেট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেন। তার আগে মূল পাইলটকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন, যাতে ওই বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পেতে সমস্যা না হয়। ফলে তাকে থামানো বা সতর্ক করার মতো সময়ও কারও হাতে থাকবে না।

ঘটনার বিভীষিকাময় বিবরণ দিয়ে ক্যাপ্টেন মাচ্চার জানান, হামলার কয়েক মিনিট আগে আল-হামামি তাকে নামাজ পড়ার কথা বলেছিলেন। সেই সুযোগে একটি ক্র্যাশ অ্যাক্স বা উদ্ধারকার্যে ব্যবহৃত কুড়াল দিয়ে তার মাথায় গুরুতর আঘাত করেন হামলাকারী। প্রাথমিক ধাক্কায় ক্যাপ্টেন মাচ্চার মনে করেছিলেন বিমানে যান্ত্রিক কোনো গোলযোগ হয়েছে, কিন্তু বারবার আঘাত আসার পর তিনি বুঝতে পারেন সহ-পাইলটই তার ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছেন। আহত অবস্থায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ক্যাপ্টেন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলে ফেললে যাত্রীরা ও অন্য ক্রু সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে দুজন অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় বিমানটি সৌদি আরবের মাটিতে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। তিনি মনে করেছিলেন, একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কেউ তার পরিকল্পনা বুঝতে পারবে না।

তদন্তে উঠে এসেছে, ইতালির সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেল্লা সেরার তথ্যমতে, ক্যাপ্টেনকে আক্রমণের পরপরই আল-হামামি বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে রাডার সামনে ঠেলে দেন। এতে বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে এবং প্রায় শব্দের গতির সমান গতিবেগ অর্জন করে। জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসে ইসরাইল ভ্রমণের সময় আল-হামামি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও হামলার চূড়ান্ত ছক কষেন। মূলত তেল আবিবে ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন একটি সংস্থা বেছে নেয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগেও জুলাই মাসে একবার পরিকল্পনা করেও ক্রু সদস্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি পিছিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

সংক্ষিপ্ত এই নাশকতার ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে চরমপন্থী মতাদর্শের কারণে ওমান সরকার আল-হামামিকে বিমান চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে বিপুলসংখ্যক ইসরাইলি যাত্রী বহনকারী একটি ফ্লাইটে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, বিদেশি ফ্লাইটের যাত্রী তালিকা যাচাই-বাছাই করা পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এদিকে পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ দাবি করেছেন, তার মন্ত্রণালয়কে কোনো যাত্রী তালিকা বা সতর্কবার্তা দেয়া হয়নি এবং নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব ছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর।

যদি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলা সফল না হতো, তবে আল-হামামির বিকল্প লক্ষ্য ছিল তেল আবিবের কোনো সুউচ্চ ভবন অথবা জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটি। ভয়াবহ এই হামলার তদন্ত চলাকালীন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক রিপোর্টে নিরাপত্তার বড় ধরনের ঘাটতি ফুটে উঠেছে। হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হামাম আল-হামামি এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। পুরো ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে কীভাবে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুনরায় পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পেলেন এবং তা শনাক্তে কেন ব্যর্থতা দেখা দিল, তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা