২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর এই সম্মানজনক পুরস্কারটি জিতেছেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন। ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। সাহিত্যে মৌলিক ও সাহসী ধারার কাজের জন্য তাকে বিশ্বসেরা এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
অ্যান কার্সনের জন্ম ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টো শহরে। নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও শিল্প অঙ্গনে নিজের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেন। তার কর্মজীবনের অন্যতম মাইলফলক হলো ১৯৮১ সালে ক্লাসিকস বিষয়ে প্রকাশিত তার ডক্টরাল থিসিস ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’। এর পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নানা ঘরানার সাহিত্য সৃষ্টি করে চলেছেন, যা তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে। অ্যান কার্সনের বেশিরভাগ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে।
তার সৃজনশীল কর্মপঞ্জিতে বেশ কিছু কালজয়ী বই রয়েছে। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’-এর অন্তর্ভুক্ত ‘দ্য গ্লাস এসে’ বেশ প্রশংসিত হয়। তবে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’ বইটিকে তার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যে তার এই অনন্য শৈলী পাঠকমহলে ও সমালোচকদের কাছে গভীরভাবে সমাদৃত।
কার্সন গ্রিক ধ্রুপদী সাহিত্যের অনুবাদ এবং পুনর্নির্মাণে বিশেষ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে তার কাজগুলোর মধ্যে ‘ইফ নট, উইন্টার’ অন্যতম। এটি ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া তার অনুদিত কর্মগুলোর মধ্যে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ। তার কাজের এই বৈচিত্র্য আজও স্পষ্ট, যা ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’ বইটিতে দেখা যায়। এই সংকলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট ছোট রচনা রয়েছে, যা তার লেখার গভীরতা ও প্রসারের পরিচয় দেয়। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’ গ্রন্থটিতেও তার একই ধারার বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন ফুটে উঠেছে, যা প্রমাণ করে যে তিনি নিরন্তর নতুনত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ল্যাটিন বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ, ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য তিনি শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এ ছাড়া দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে অ্যান কার্সনের যৌথ কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়।