বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি

Reporter Name / ৩৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় ধরনের মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইউনিটটির চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর চূড়ান্ত অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ধাপটি ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ হিসেবে পরিচিত, যা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পূর্বশর্ত। বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এই অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে আরও দুটি ধাপের অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আরও একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে।

প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি ভালভের কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন এই অনুমোদন ঝুলে ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাসম্পন্ন এই ভালভটির সমস্যা সমাধানের জন্য রাশিয়া থেকে বিশেষ কারিগরি দল আনা হয়েছিল। তাদের তত্ত্বাবধানে একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর ব্যবস্থাটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হলে কর্তৃপক্ষ চুল্লিতে বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেয়।

অনুমোদনের পর এখন চুল্লিতে খুবই সীমিত পর্যায়ে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু করা হবে। মূলত এই পর্যায়ে চুল্লির নিরাপত্তা সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক উপকরণের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই পরীক্ষা ও প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রস্তুতি শুরু হবে।

পরবর্তী ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন ও জেনারেটর চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে কেন্দ্রটিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুর দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় পরিচালিত হবে, যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পরও অন্তত ৭ থেকে ৮ মাস কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। সফলভাবে সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রথম ইউনিটটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে। রূপপুরের এই ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের মর্যাদা অর্জন করবে। এটি দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা