ইরানের হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং ফার্স নিউজ এজেন্সি অজ্ঞাতনামা সামরিক সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অনুমোদনহীন পথে চলা কোনো তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্রের তলদেশে পেতে রাখা মাইন বা বিস্ফোরকে আঘাত করায় এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ট্যাংকারের পরিচয়, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আল-জাজিরা ও আনাদোলুর প্রতিবেদনেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে থেকেই ইরান তাদের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে তার প্রশাসন ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে বর্তমানে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো দিক সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরান ইস্যু নিয়ে চলমান সংঘাত মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। গত আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসে দলের বর্তমান সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষা করা এখন তাদের কাছে মূল লক্ষ্য। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর থেকে চলমান আট মাসের যুদ্ধ মার্কিন রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করেছে।
রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান ইরান সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সন্তুষ্ট নন। এমনকি খোদ রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও প্রায় চারজনের একজন তার গৃহীত পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া বর্তমানে মার্কিন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।