ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে দিল্লিকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে মুড়ে ফেলা হয়েছে। যন্তর মন্তরে দলের নেতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৪০ হাজারেরও বেশি দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবেলায় প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ বসিয়ে যন্তর মন্তরগামী পথগুলোকে অনেকটা দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ড্রোন ব্যবহার করে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। রাতারাতি ১ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ এবং প্রতিবাদস্থলের আশপাশ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরপাকড়ের তালিকায় জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও রয়েছেন, যাকে গুরুগ্রাম পুলিশ আটক করেছে। পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের গেট তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রাজীব চক, নিউ দিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক এবং কাশ্মীর গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রেন চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। আজ ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নিউ দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা ২৫০টিরও বেশি লোকাল ও আন্তঃরাজ্য ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিং থেকে ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আন্দোলনের প্রাক্কালে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের তরুণ প্রজন্মকে ভয় পাচ্ছেন। দীপকের মতে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল দিল্লিতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও আন্দোলন করা। কিন্তু সরকার তাতে বাধা দিয়ে নিজেদের ভীতিই প্রমাণ করেছে।