যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের উডসাইডে একটি বিশেষ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর রোববার দুপুরে বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপ (বাগ)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাগ লিডারশিপ টাউন হল নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠক, নেতা, অ্যাডভোকেট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রার্থী বাব্বী সৈয়দ, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জে মোল্লা সানী, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সেক্রেটারি আমেনি মেহেদী বাবু, ইমাম মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখ। আলোচনায় উঠে আসে, নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি, জনপ্রশাসন, অ্যাডভোকেসি ও জনসেবার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রজন্ম ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। টাউন হলে বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা হয়। কোন উদ্যোগগুলো কার্যকর হয়েছে, কোথায় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য কী ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারেড়এসব বিষয় নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখেন যে, একটি কমিউনিটির জনসংখ্যা বা অর্থনৈতিক সক্ষমতা যতই থাকুক না কেন, প্রকৃত নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে হলে সংগঠিত ও কার্যকর রাজনৈতিক উপস্থিতি অপরিহার্য। ভোটার নিবন্ধন থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন ভোটদান, এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের দাবি ও প্রত্যাশা জোরালোভাবে তুলে ধরার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া কমিউনিটির শক্তি ও সীমাবদ্ধতা, ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম, তরুণদের সম্পৃক্ততা, নেতৃত্ব বিকাশ, বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা এবং নির্বাচনের আগে ও পরে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বাগ-এর সভাপতি জয়নাল আবেদিন তার বক্তব্যে কমিউনিটির সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোটার তালিকায় নাম লেখানোই শেষ কথা নয়; বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা, ভোটদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নীতিনির্ধারকদের সামনে কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগত বা সংগঠনকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের চেয়ে একটি অভিন্ন কমিউনিটি এজেন্ডা তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশি আমেরিকানদের কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বাগ-এর সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম ভোটার শিক্ষা ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বাড়ানোর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।
এই টাউন হল মিটিংয়ে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট-৩০ থেকে অ্যাসেম্বলি মেম্বার পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে নির্বাচিত প্যাট্রিক মার্টিনেজ, ডেমোক্রেটিক পার্টি কউইন্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং নিউইয়র্ক পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্টরা। আলোচনায় আরো অংশ নেন- ডিস্ট্রিক্ট-৩০ থেকে অ্যাসেম্বলি মেম্বার পদে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে নির্বাচিত প্যাট্রিক মার্টিনেজ, ডেমোক্রেটিক পার্টি কউইন্সের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, নিউইয়র্ক পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ও।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেবল একটি নির্বাচনী চক্র হিসেবে দেখলে হবে না, বরং একে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সক্ষমতা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই টাউন হল সভার আয়োজন করা হয়েছে, যা আগামীতে কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।