আবুধাবি টেস্টে এক ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ে বিশ্বক্রিকেটের রেকর্ডে নিজের নাম লেখালেন লিটন দাস। কোনো টেস্ট ম্যাচে উইকেটকিপার হিসেবে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান সংগ্রহ এবং গ্লাভস হাতে নয়টি ডিসমিসালের এমন নজির আগে কখনো দেখা যায়নি। এমন অনন্য অর্জনের মাধ্যমে টেস্ট ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এবার তার সামনে হাতছানি দিচ্ছে আরও বড় মাইলফলক। ইকরাম আলীখিলকে ফিরিয়ে লিটন দাস শুধু একটি উইকেটের পতনই নিশ্চিত করেননি, গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে এই ক্যাচেই পূর্ণ হয় তার নবম ডিসমিসাল।
ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেওয়া এই পারফরম্যান্সের শুরুটা হয়েছিল ব্যাটের লড়াই দিয়ে। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি খেলেন ১০২ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে ক্যাচ লুফে নেওয়ার দৃশ্যটি ছিল ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। সব মিলিয়ে ম্যাচে তার ডিসমিসালের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়টিতে। ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের একটা দৃশ্য এমন— ইবাদত হোসেনের গতিময় বাউন্সার, ব্যাট ছুঁয়ে বল চলে যাচ্ছিল উইকেটের পেছনে।
পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে ৯টি ডিসমিসালের ঘটনা লিটনের কৃতিত্বসহ মোট ৩১ বার ঘটেছে। এর মধ্যে ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড আছে জ্যাক রাসেল, এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ঋষভ পন্তের। আর ১০টি ডিসমিসালের ঘটনা ঘটেছে পাঁচবার। বাংলাদেশের উইকেটকিপিংয়ের ইতিহাসে এর আগে ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলট ৭টি ডিসমিসাল করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ডটি ছিল তখনকার সেরা পারফরম্যান্স। এবার লিটন দাস সেই সীমা ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় নাম লেখালেন। টেস্টে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমালের একক মালিকানা পেতে লিটনের দরকার আরও তিনটি ডিসমিসাল। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচ।