যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকেরা এখন দেশটিতে অবস্থান করেই জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির জন্য আবেদন করতে পারছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সেবার আওতায় এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়। এনআইডি পাওয়ার পুরো বিষয়টি বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপে সম্পন্ন করতে হয়, যা আবেদনকারীদের জন্য সহজ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপ হলো আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করা। দূতাবাসের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব নাগরিকের আগে এনআইডি নেই এবং যারা এর আগে কখনো এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, কেবল তারাই নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর কাছে অবশ্যই বৈধ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। এছাড়া ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদ অথবা দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র থাকা আবশ্যক। ধাপ ১ ► আবেদনের যোগ্যতা যাচাই: দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের আগে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা এর আগে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তারা নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বয়সের যোগ্যতা নিয়ে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য থাকায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের পরিচয় এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্য অনুসরণ করা জরুরি। আবেদনের সময় সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর দিতে হতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে প্রার্থীকে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল (https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/) ব্যবহার করতে হবে। পোর্টালে ঢুকে ‘নতুন নিবন্ধনের আবেদন’ নির্বাচন করে ফরম-২(ক) সঠিকভাবে পূরণ করা জরুরি।
তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। আবেদনের সময় অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি এবং ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি সাথে রাখা প্রয়োজন। ধাপ ৩ ► প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত: আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে রাখা জরুরি।
চতুর্থ ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কেবল অনলাইনে আবেদন করলেই এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। আবেদনকারীকে সশরীরে নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পঞ্চম ধাপে আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে পাঠানো হবে। সেখানে তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের পর এনআইডি প্রস্তুত করা হয়।
চূড়ান্ত পর্যায়ে, এনআইডি প্রস্তুত হয়ে গেলে আবেদনকারী নির্বাচন কমিশনের সেবা পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি (https://washington.mofa.gov.bd/pages/staticpages/6952668935ce18e1c05a9de3) এবং নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে (https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/) নিয়মিত চোখ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের নির্ভুল তথ্য প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যাতে যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।