বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

প্রধানমন্ত্রী: ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে

Reporter Name / ১৪ Time View
Update : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

ধর্ম কিংবা সংখ্যার বিচারে দেশের নাগরিকদের ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে সমান আইনগত সুবিধা ও অধিকার পাওয়ার অধিকার রাখেন। সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুসংহত রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক শতভাগ নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করতে পারবেন। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজার বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এই সমাবেশে সরকারের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে একজন ব্যক্তি যেকোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারেন—চাই তিনি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান হন। তবে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সকলের মূল পরিচয় হলো তারা বাংলাদেশি। এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করে প্রতিটি মানুষ একই জাতীয় পরিচয়ে সমানভাবে বেড়ে উঠছে। কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার।

ঐতিহাসিক আন্দোলন ও সার্বজনীন অংশগ্রহণের মূল্যায়ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাধারণ মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহিমান্বিত মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটিই—দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনপ্রতিষ্ঠা করা।

  • মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লাখ লাখ শহীদ ও বীর জনতার মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদের কোনো স্থান ছিল না।
  • গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি রাজপথের আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একাত্ম হয়ে লড়াই করেছেন।
  • সম্প্রতি সমাপ্ত জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলিবিদ্ধদের সেবা নিশ্চিত করার সময়ে কেউ ভুক্তভোগীর ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়নি, বরং মানবিক দিকটিই সেখানে মুখ্য ছিল।

আইনের শাসন ও প্রবাসী অভিজ্ঞতার শিক্ষা

নাগরিকদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ‘সংখ্যাগুরু’ বা ‘সংখ্যালঘু’ পরিভাষা ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের প্রবাস জীবনের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি জানান, রাজৈনতিক বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান করতে হয়েছিল। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রবাসে তিনি সেই সুবিধাপ্রাপ্ত ছিলেন না। ফলে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে দেশের নাগরিক পরিচয়ই প্রধান হওয়া উচিত।

আইনের প্রয়োগ ও রাষ্ট্রীয় সুবিধার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য দেশের আইন একইভাবে কার্যকর থাকবে। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসরণের কারণে কারো সাংবিধানিক অধিকার বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে সর্বাত্মক আহ্বানের অঙ্গীকার

সকল শহীদ ও সংগ্রামীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস জুড়ে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা একটি প্রীতিময় ও শান্তিময় ভূখণ্ডের প্রত্যাশা করেছিলেন। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—সকল সম্প্রদায়ের সক্রিয় অবদান ছাড়া এমন একটি আকাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করা অসম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

উক্ত অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বগণ উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন

  • অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
  • পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
  • ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিনিধিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা