বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

মতলব উত্তরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ইলিশ শিকার ও

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে বা ‘ম্যানেজ’ করে জেলেরা ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ইলিশ নিধন চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সন্ধ্যার পর নদী পুরো জেলেদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সারারাত মাছ ধরার পর ভোরে সেই ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য আড়তে আনা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলা বিকেল ৫টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা তৎপরতা থাকলেও সন্ধ্যার পর চিত্র বদলে যায়। এ সময় সংঘবদ্ধ জেলেরা নদীতে জাল ফেলে মা ইলিশ সংগ্রহ করেন। ষাটনল এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত স্থানীয় বাবুবাজারে মা ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। একইভাবে আমিরাবাদ বাজারের নদীপাড়ে দুপুর ১২টা থেকে প্রকাশ্যে মা ইলিশ কেনাবেচা চলে। স্থানীয় রুমান, সোহাগ ও আলাউদ্দিনের ভাষ্যমতে, শত শত পাইকার সেখান থেকে মা ইলিশ কিনে নিয়ে যান এবং প্রতিদিন সেই বাজারে কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। এছাড়া এখলাসপুর, মোহনপুর, দশআনী ও মুক্তির পল্লী এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিকেল ৫টার পর নদীতে প্রশাসনের উপস্থিতি কমে গেলে সংঘবদ্ধ জেলেরা ইলিশ শিকারে নেমে পড়েন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিস্তীর্ণ নদীতে রাতের অন্ধকারে জাল ফেলে মা ইলিশ শিকার করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কোনো ঝামেলা থাকে না।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের নেপথ্যে টোকেন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন জেলেরা। জসিম উদ্দিন, খোরশেদ ব্যাপারী, আয়নাল মিয়া ও নুরুল হকের মতো একাধিক জেলে জানান, মৎস্য অফিস ও মোহনপুর নৌপুলিশকে ম্যানেজ করে প্রতি নৌকার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন কিনতে হয় তাদের। এই টোকেন থাকলেই জেল-জরিমানা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমিরাবাদ মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, অভাবের তাড়নায় মানুষ মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছে এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা বাজার সচল রেখেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান, জনবল সংকটের কারণে রাতে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সুর শোনা গেল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজীব চন্দ্র দের কণ্ঠে। তিনিও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। ইচ্ছা করলে আপনারা আমাদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিতে পারেন।’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা