মতিঝিলে তুলনামূলক কম খরচে অফিস নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। মতিঝিলে খরচ কম, তবু আগারগাঁও যেতে চায় বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
সংস্থাটির এই সিদ্ধান্তের ফলে বার্ষিক কার্যালয় ব্যয় প্রায় ২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। অথচ দেশের সিংহভাগ বীমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয় মতিঝিল ও এর আশেপাশের এলাকায় অবস্থিত। রোববারই ইরানে হামলা, না হয় চুক্তি: ট্রাম্প।
গত ২০ সেপ্টেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে আইডিআরএ কার্যালয় পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন চেয়েছে।
২০১৪ সাল থেকে সংস্থাটি মতিঝিলের দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আইডিআরএ জানিয়েছে, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার ৩৭/এ নম্বরের সাধারণ বীমা করপোরেশন টাওয়ারে ২০১৪ সাল থেকে তাদের কার্যালয়।
আইডিআরএ’র ভাষ্যমতে, বর্তমান কার্যালয়ে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরাপত্তা এবং কাজের উপযোগী পরিবেশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, বর্তমান কার্যালয়ের জায়গা, কর্মপরিবেশ, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন এবং দায়িত্বের পরিধি বাড়ার কারণে আরও উপযুক্ত জায়গা দরকার। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আলো-বাতাস থাকবে এবং কাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হবে। বর্তমান কার্যালয়ে এসব সেবার জন্য আলাদা বিল দিতে হয়। আইডিআরএর বক্তব্য, অনেক কর্মী বর্তমান কার্যালয়ের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বাসা, সন্তানদের স্কুল এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবন গুছিয়েছেন।
এছাড়া সংস্থাটির কাজের পরিধি ও জনবল বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে আরও প্রশস্ত কার্যালয় প্রয়োজন।
কার্যালয় পরিবর্তনের লক্ষ্যে আইডিআরএ ছয়টি ভবন পরিদর্শন করে, যার মধ্যে মতিঝিলের সানমুন স্টার টাওয়ার এবং আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়। তবে কর্তৃপক্ষের কাছে কেবল আইডিবি ভবনের অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়েছে। নতুন কার্যালয়ের খোঁজে ছয়টি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছিল বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইডিআরএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আইডিআরএ জানিয়েছে, দর-কষাকষির মাধ্যমে আইডিবি ভবনের ভাড়া প্রতি বর্গফুটে সব খরচসহ ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ভাড়ার মধ্যে নিরাপত্তা, পার্কিং, পানি, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও জেনারেটর রক্ষণাবেক্ষণের মতো সেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটির মতে, ভবনের উন্নত নিরাপত্তা ও পরিবেশের কারণে এই ব্যয় যৌক্তিক। আইডিআরএর চিঠিতে বলা হয়েছে, শুরুতে আইডিবি ভবন কর্তৃপক্ষ সব সুবিধাসহ প্রতি বর্গফুট জায়গার মাসিক ভাড়া চেয়েছিল ১৫১ টাকা ২৫ পয়সা। এর বিপরীতে আইডিআরএ প্রতি বর্গফুটের ভাড়া ১১৮ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। ভবনের ১১তম, ১৫তম, ১৬তম ও ১৭তম তলা এবং নিচতলার একাংশ মিলিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৯৮৯ বর্গফুট জায়গার জন্য এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রতি বর্গফুটের মূল ভাড়া ৭৫ টাকা এবং ইউটিলিটি ও সেবা মাশুল ৪৩ টাকা। আইডিআরএ বলেছে, জায়গার পরিমাণ, অবস্থান, সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক পরিচালন ব্যয় বিবেচনা করে ভাড়ার প্রস্তাবটি যাচাই করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইডিআরএ’র জনসংযোগ পরামর্শক সাদিক আরমান জানান, উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎপাদনশীলতা ও কর্মস্পৃহা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে আইডিবি ভবনে স্থানান্তরের অনাপত্তিপত্র এখনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে আসেনি। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ এখনো শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
এদিকে অন্যান্য বাণিজ্যিক ও আর্থিক খাতেও সরকারি সিদ্ধান্তের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হওয়া এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার বিষয়টি অন্যতম। আড়াই দিন বন্ধের পর চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।