জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব এসেছে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও একটি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল দুই কক্ষের গঠনপ্রক্রিয়া ও মেয়াদ নির্ধারণ। প্রস্তাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের ৫০টি আসন বণ্টন করা হবে। বাকি ৫০টি আসন নিম্নকক্ষে দলগুলোর অর্জিত আসনের অনুপাতে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, বিকল্প পথ হিসেবে সরকারি ও বিরোধী দলের সর্বসম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন আমন্ত্রিতরা।
বৈঠক শেষে বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া, এর অবয়ব এবং কাজের পরিধি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংলাপে আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতামত নিশ্চিত করতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও গতিশীলতার জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার তাগিদ।
বিশেষ কমিটির এ বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকারের সীমারেখাসহ রাষ্ট্র কাঠামোর নানা মৌলিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।