বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময়

Reporter Name / ৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের মোড় নিয়েছে। আলোচিত এই মামলায় সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী জড়িত বলে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। এই মামলার তদন্ত শেষ করতে আদালত চতুর্থবারের মতো টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেছেন। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেদিন উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল টাস্কফোর্স।

আদালতে পেশ করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার সঙ্গে আলোচনার পর টাস্কফোর্সের সদস্যরা এই হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন।

বর্তমানে বিষয়টি অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাপ্ত সব তথ্য পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাদীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারী পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে জানান, মামলার নতুন তদন্তভার গ্রহণের পর থেকে টাস্কফোর্স এখন পর্যন্ত ৯০ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করেছে। তিনি আরও বলেন, গত ৩০ আগস্ট প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, দুদকের অভিযানে জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসা থেকে কিছু ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে জিও লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে। রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই মামলার নতুন তদন্তভার গ্রহণ করে টাস্কফোর্স ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সেটা হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক। সেখানে বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত পেয়ে দুদক সেগুলো জব্দ করে। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রকম জিও লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন পাওয়া যায়।’। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘এ–সংক্রান্তে জিয়াউল আহসানের সহকারী একজন র‌্যাব সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে উল্লিখিত প্রসিকিউটর প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কী আলামত আছে তা চেয়েছেন এবং তারা একটা চিঠিও দিয়েছেন।

আইসিটি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামও প্রসিকিউটর জোহার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে মামলার তদন্তে নতুন তথ্যের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যে পিবিআই তদন্ত দল সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও প্রসিকিউটরদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে এবং আলামত চেয়ে তাদের চিঠি দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হকের দাখিল করা অগ্রগতি প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে, যা আজ আদালতে পড়ে শোনানো হয়। এই চিঠিটা আমি আপনাকে বলি যে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ কথাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট র‍্যাবকে এই মামলার তদন্ত থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তবে ওই সময়ে আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিরতি পড়ে। বর্তমানে নতুন করে ছয় মাস সময় পাওয়ায় তদন্ত আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা