ইসরায়েলের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয়নি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন করেছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনের এই ফলাফলে বড় দুই জোটের কেউই এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ বিশেষ ব্যালট গণনা করা বাকি রয়েছে, যার মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক ও নির্ধারিত কেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া নাগরিকদের ব্যালট অন্তর্ভুক্ত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে আসনবণ্টনে পরিবর্তন আসতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে হওয়া এই নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ৭৭ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে আসনসংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তবে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ৭৭ বছর বয়সি এই প্রধানমন্ত্রী এখনো রাজনৈতিকভাবে লড়াইয়ে রয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জোটটি।
নির্বাচনী ফলাফলের এই ধোঁয়াশা কাটাতে আরবদের দুটি রাজনৈতিক জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ও ‘রা’আম’ গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। যদিও প্রাথমিক পূর্বাভাসে তারা যৌথভাবে ১৯টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট ও নেতানিয়াহু উভয়েই আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবুও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত একটি ঐক্য সরকার গঠিত হতে পারে, যেখানে আইজেনকটের জোটও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, ভোটাররা বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন এবং তার জোট এখন নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, লিকুদ পার্টি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে।
দলটির দাবি, আরব অধ্যুষিত কয়েকটি কেন্দ্রে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা এবং নিষিদ্ধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। লিকুদ জানিয়েছে, তারা এর সপক্ষে শত শত প্রমাণ ও সাক্ষ্য পুলিশ, শিন বেত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেবে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আরবদের প্রধান জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পাল্টা দাবি করেছে যে, আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতিই নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটির নেতা ইউসেফ জাবরিন জানিয়েছেন, তারা উসকানি ও বর্ণবাদী নীতির বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন। এছাড়া সরকার পতনের লক্ষ্যে তারা বড় ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। তবে জাবরিন স্পষ্ট করেছেন, তাদের জোট সরাসরি কোনো সরকারের অংশ হবে না, বরং নেতানিয়াহু বিরোধী কোনো সরকারকে কেবল বাইরে থেকে সমর্থন প্রদান করতে পারে। বাড়িঘর ধ্বংস, বর্ণবাদ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারের নীতির বিরুদ্ধেও তারা অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি দলটির।