জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। সংক্ষিপ্ত রায় পাঠের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম দণ্ডপ্রাপ্তদের বিস্তারিত শাস্তির আদেশ জানান। পরে তিনি কে কোন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তা ঘোষণা করেন।
একই মামলায় আমৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের কেউই উপস্থিত ছিলেন না, তারা চারজনই পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে আমির হোসেন দায়িত্ব পালন করেছেন। মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিপ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার ও জহিরুল আমিন অংশ নেন।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তি-পাল্টা যুক্তি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
পরবর্তীতে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি অভিযোগ এনেছে। যার প্রথমটি হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে হানিফের প্রত্যক্ষ উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা প্রদান। দ্বিতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে চরম বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তৃতীয় অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার সঙ্গে এই চার নেতার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।