রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারুফ হোসেন দুখু (১৮) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার। নিহতের পরিবারের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সাদা পোশাকে আসা এসআরবি সদস্যদের ছোড়া গুলিতেই ওই কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনার পরদিন নিহতের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ‘ইউনিফর্মধারীদের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন’—দীপের বক্তব্যে ‘আশ্বস্ত’ হতে পারছে না পিবিআই। প্রতিশ্রুতির পরও থামছে না ‘মব’ সহিংসতায় মৃত্যু। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় বোন রোকসানা বেগমের অভিযোগ, সেদিন সাদা পোশাকে ১০-১২ জন এসআরবি সদস্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ, আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ। আটক লোকজন তখন বিভিন্ন দিকে দৌড়াতে থাকে।
তাদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাদের চিনতে না পারায় স্থানীয়রা তাদের ওপর চড়াও হন। এরপরই এসআরবি সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। গুলির শব্দ শুনে মারুফ কী হচ্ছে তা দেখতে বের হলে সে গুলিবিদ্ধ হয়। রোকসানার দাবি, ঘটনার সময় স্থানীয় কারও কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না এবং স্থানীয়রা কোনো গুলি চালায়নি।
তবে নিহতের পরিবারের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে এসআরবি। এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মাদক কারবারিরা তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে আটক ৪ জনকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। এরপর কারবারিরা এসআরবি সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরীও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্তে এসআরবি সদস্যদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘আমার মা এগুলোর কিছুই বোঝেননি,’ বলেন তিনি।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গোয়েন্দা সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানান, সেদিন অভিযানে কেবল এসআরবি সদস্যরা গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাদা পোশাকে অভিযান চালানো হয়েছিল। পরিস্থিতির প্রয়োজনে তারা ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন। যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় ওই অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এসআরবি সদস্যরা হামলার শিকার হন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। ২৮ অক্টোবর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) আকতার হোসেন জানান, ধলপুরে সেদিন এসআরবি সদস্য ও মাদক চোরাকারবারিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বাধার মুখে পড়লে পরিস্থিতি সামলাতে তারা ৫ রাউন্ড গুলি চালান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ২৭ অক্টোবর বিকেলে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ক্রিকেট খেলতে বের হয় মারুফ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আউটফল স্টাফ কোয়ার্টার ১৪ নম্বর সংলগ্ন পরিত্যক্ত ভবনের কাছে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের গুলির মুখে পড়ে সে। পালানোর সময় কাঁধে গুলি লাগলে স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে রোকসানা দাবি করেন, এজাহারের এই বয়ান পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী তার মা সই করেছিলেন, যা তিনি বুঝতে পারেননি।
এই ঘটনার বিষয়ে জানতে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসআরবির দেওয়া তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তারা জানায়, এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তিনজনকে হাতকড়া পরানোর সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং এরপরই দুই সদস্য গুলি চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, এসআরবি সদস্য পরিচয় দিয়ে ৩ জনকে হাতকড়া পরানোর সময় ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়।
এইচআরএসএস ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আনার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া ব্যালিস্টিক প্রতিবেদন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, কল রেকর্ড ও অভিযান সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে অভিযুক্ত সদস্যদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, সাক্ষী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সিনেমার ভাষা খুঁজে নিয়েছিলেন যিনি। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য নিজের জার্সি-পদক নিলামে হামজার।