শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পুনরায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘শাকসু পুনরুদ্ধার আন্দোলন’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ছাত্রশিবির, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র আন্দোলন ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার সদস্য সচিব রিয়াজ রিমন প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ একজন বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র চিবিয়ে খাব।” আমরাও প্রশাসনকে বলতে চাই—শাকসু দে প্রশাসন, নইলে তোর গদি ধরে টান দিব।’ তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা শাকসু নির্বাচন বন্ধ করতে হাইকোর্টে রিট করেছিল, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছিল এবং ক্যাম্পাসে অসহযোগিতার ডাক দিয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন প্রশাসনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। রিয়াজ রিমন স্পষ্ট করেন যে, শাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং এটি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল হাসান প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, শাকসু স্থগিতের সময় প্রশাসন চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও নির্বাচন না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বর্তমান সরকারের গণতন্ত্রের ধারণার সমালোচনা করে বলেন, ‘একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করা এক ধরনের মুনাফিকি।’ তিনি আরও বলেন, ৯০-এর পর বিএনপি ছাত্রসংসদ নির্বাচন হতে দেয়নি, তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ‘হত্যাকারী’। এই তকমা থেকে মুক্তি পেতে হলে তাদের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
স্বতন্ত্র প্যানেলের ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক শাকিল বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে রিট করে নির্বাচন বন্ধ করার মতো নোংরা নজির আর কোথাও নেই। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, শাকসুর দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারেননি, অথচ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অন্যায় করা হয়েছে। ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক রশিদ আবরার অভিযোগ করেন, শাকসু নির্বাচন বানচালে যারা সহায়তা করেছে, তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তার মতে, প্রশাসন শাকসু চায় না কারণ এতে তাদের স্বৈরাচারী মনোভাব, দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ কমে যাবে।
ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, নতুন প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পালস বুঝবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা ‘দায়িত্ব বুঝে পাই নাই’ বা ‘নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি’—এমন নানা অজুহাতে নাটক মঞ্চায়ন করছেন। মানববন্ধনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম এবং বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম পবনও বক্তব্য রাখেন।
আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তারা জানান, গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের পর আজ মানববন্ধন করলেন এবং আগামীকাল দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করবেন। প্রশাসন যদি দ্রুত শাকসু নির্বাচনের আয়োজন না করে, তবে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু তাদের কাছে কি গণতন্ত্রের অর্থ শুধুমাত্র ৩০০ আসনের সংসদীয় নির্বাচন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি দেশের জনগণের ভোটাধিকার থাকলে সেই দেশের শিক্ষার্থীদেরও তো গণতান্ত্রিকভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাহলে সব জায়গাতেই এর চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে কষ্ট দিয়েছেন, তা উপলব্ধি করুন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে পুতুলের মতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও তারা হারাবে।